kalerkantho


রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন ও স্থানান্তরের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:৪৬



রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন ও স্থানান্তরের দাবি

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সহ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের দ্রুত স্বদেশে প্রত্যাবাসন এবং ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরের দাবি জোরদার হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার জেলায় কমপক্ষে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে এতদাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হচ্ছে ব্যাপক হারে। সীমান্তে অব্যাহত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মুখে চুরি-ডাকাতি, অপহরণ, বনজ সম্পদ ধ্বংসসহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকাণ্ড ক্রমশ বেড়েই চলেছে।  

এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে দেয়া সহ ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরের দাবি জোরদার হচ্ছে।  স্বদেশে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনসহ ঠেঙ্গারচরের নির্দ্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের দাবিতে আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা সদরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গত সপ্তাহেও একই দাবিতে কক্সবাজার জেলা শহরে পিপলস ফোরাম নামের একটি নাগরিক সংগঠন মানব বন্ধনের আয়োজন করে।

আজ বিকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির নেতা আবদুল আলম ফকির। উক্ত সভায় বক্তারা বলেন রোহিঙ্গারা দেশ ও জাতির শত্রু। তারা চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, অপহরণ, ছিনতাই, অত্যাচার সহ এমন কোন কাজ নাই করছে না। দেশের নিরাপত্তার জন্যও রোহিঙ্গারা হুমকি।  

উক্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় ক্যাম্প ও বস্তি গড়ে তুলে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

এতে স্থানীয় দরিদ্র অসহায় শ্রমজীবী মানুষের জীবনমাণ ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে।  

তিনি বলেন, সারাদেশের চেয়ে সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় দারিদ্রতার হার, অপুষ্টির হার, শিক্ষার হার, বাল্য বিবাহের হার সহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। রোহিঙ্গারা সস্তায় শ্রম দেওয়ায় স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের মাঝে দারিদ্র্যের পরিমাণ বেড়ে চলছে। এছাড়াও গত বছর এ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা টেকনাফের নয়াপাড়া শরনার্থী শিবিরের দায়িত্বরত সশস্ত্র আনসার বাহিনীর ব্যারাকে হামলা চালিয়ে একজন গর্বিত আনসার সদস্যকে হত্যা করে বিপুল পরিমাণের সরকারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায়।  

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল মনছুর চৌধুরী বলেন, দেশের নিরাপত্তার হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গারা। তাদেরকে স্বদেশে প্রত্যাবাসন বা প্রধানমন্ত্রী তাদের স্থানান্তরের যে উদ্যোগ নিয়েছে সেই মতে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া হোক। তারা এমন কোন অনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই করে না। মিয়ানমার সময়ে সময়ে তাদের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেয়। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গারাও অভাব অনাটনে পড়ে নানা বাড়ির আবদারের মত সহজেই বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এসব আশ্রিত রোহিঙ্গারা আমাদের বনজ, প্রাকৃতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ একের পর এক ধ্বংস করে চলছে। রোহিঙ্গারা এ দেশীয় পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে ধরা পড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।  

প্রসঙ্গত গত বছরের ১২ মে রাতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠি টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আনসার কমান্ডার আলী হোসেনকে হত্যার পর ৬০০ রাউন্ড গুলি ও ১৩ টি অস্ত্র লুঠ করে নিয়ে যায়। পরে গত ৯ জানুয়ারি মিয়ানমার সীমান্তের ঘুংধুম এলাকার গহীন অরণ্যে অভিযান চালিয়ে লুঠ হওয়া ৫টি সহ ১৩ টি অস্ত্র ও ৯৫ রাউন্ড গুলি নিয়ে ৩ জন রোহিঙ্গাকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে।


মন্তব্য