kalerkantho


নীলফামারীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:৪৮



নীলফামারীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারী ওষুধ না পাওয়ার বিস্তর অভিযোগ চিকিৎসাধীন রোগীদের। ওই সময়ে হাসপাতালের পাশ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারী ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার রাত তিনটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তী বালাপাড়া ইউনিয়নের রূপাহারা গ্রামের মমিনূর রহমানের বাড়ি থেকে দুটি বস্তায় ভর্তি ওই ওষুধ উদ্ধার করে। এসময় মমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চুক্তিভিত্তিক টিকা বহনকারী (পোর্টার) কর্মচারী বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাত তিনটার দিকে উপজেলা শহরের রূপাহারা গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি বস্তায় রাখা বিভিন্ন প্রকারের সরকারী ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এসময় বাড়ির মালিক মমিনূর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দুটি বস্তায় ১৩ প্রকারের ২০ হাজার ৩৩০ পিস সরকারী ওষুধ পাওয়া গেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য আড়াই লাখ টাকা। মমিনূর রহমান ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা বহনকারী চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী। উদ্ধার হওয়া সরকারী ওই ওষুধ ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা সরকারী ওই ওষুধ উদ্ধার এবং মমিনূর রহমানকে গ্রেপ্তার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে কেউ মামলা করলে করতে পারেন। না হলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন।

গ্রেপ্তার হওয়া মমিনূর রহমান থানায় বলেন, আমি অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা বহন করি। গতকাল সোমবার রাতে ওই দুটি বস্তায় রাখা ওষুধ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট সফিয়ার রহমান আমাকে বাড়িতে রাখতে দেয়। সেটি কি করা হবে হবে তা আমাকে বলেননি তিনি।

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফার্মাসিস্ট সফিয়ার রহমান বলেন, মমিনূর রহমানের দেয়া বক্তব্য সঠিক না। সে ওই ওষুধ কোথায় পেয়েছেন তা আমার জানা নেই। তার সাথে পারিবারিক দ্বন্দ্ব থাকায় সে আমকে ফাঁসাতে এমন কথা বলছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার মোবারক আলী আজ দুপুরে মুঠো ফোনে বলেন, আমি কুড়িগ্রামে অবস্থান করছি। উদ্ধার হওয়া ওষুধ ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের না। আমার স্টোর ঠিক আছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে আজ দুপুরে ডিমলা উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জেড এ সিদ্দিকে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠো ফোনে তিনি বলেন, আমি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সভায় অংশগ্রহনের জন্য নীলফামারী এসেছি। সরকারী ওষুধ সহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া চুক্তিভিত্তিক পোর্টার মমিনূর রহমান বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত নেই। প্রকল্পের অর্থ বন্ধ হওয়ায় গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সরকারী ওষুধ আমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিনা সেটি তদন্ত করে না দেখে বলতে পারবো না।

সিভিল সার্জন আব্দুর রশিদ বলেন, উদ্ধার হওয়া সরকারী ওষুধ যেকোন জায়গার হতে পারে। সেটি ডিমলার কিনা অন্য কোনখানের তদন্ত না করে বলা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে বিষটি প্রমাণীত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীনরা ওষুধ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  

সেখানে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন খালিশা চাপানী গ্রামের ১০ মাসের শিশু সিফাতের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের পাতলা পায়খানা, বমি হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিন দিন ধরে আছি। হাসপাতাল থেকে স্যালাইন ছাড়া কোন ওষুধ দেয় না। বাকি ওষুধ বাইরের দোকান থেকে কিনে আনছি।

একই কথা জানান, ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামের এক বছরের শিশু মোবারক হোসেনের মা বিলকিস বেগম, ডালিয়া তালতলা গ্রামের দুই বছরের শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের মা তানজিনা বেগমসহ অনেকে।


মন্তব্য