kalerkantho


আমার শাস্তি হোক, খাদিজা তুমি সুখে থেক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:০০



আমার শাস্তি হোক, খাদিজা তুমি সুখে থেক

'আমার শাস্তি হোক, তুমি সুখে থেক। … আমি মিথ্যা বলি না। তুমিও (খাদিজা) সত্য কথা বল। ' সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে খাদিজা আক্তার নার্গিসের সাক্ষ্য গ্রহণের সময় চিৎকার করে এসব কথা বলছিলেন বদরুল। পরে বদরুলের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী তাকে দমিয়ে দেন। এভাবে আদালতে কথা বলতে নিষেধ করলে বদরুল শান্ত হন। পরে আইনজীবীদের জেরায় খাদিজা ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

খাদিজা বলেন, ঘটনার দিন পরীক্ষা শেষে তিনি হল থেকে বের হন। পরে বদরুল তার হাত ধরে টেনে পুকুরের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে বদরুল তাকে চড় মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এর পরই চাপাতি দিয়ে প্রথমে তার বাম হাতে কোপ দেন।

আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আরো তিনটি কোপের আঘাতে তিনি জ্ঞান হারান। আর কিছু তার মনে নেই বলে জানান খাদিজা। বদরুলের আইনজীবী এ সময় বিচারক ও খাদিজাকে একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, এ ছবিটি খাদিজা ও বদরুলের। এখানে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়।

তখন খাদিজা বলেন, বদরুলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। লজিং থাকা অবস্থায় বদরুলকে চা করে খাওয়াতেন তিনি। ওই সময় বদরুলের ব্যবহারে পরিবর্তন এলে পরিবার থেকে বদরুলকে বের করে দেওয়া হয়। তাই ছবিটিতে থাকা মেয়েটি তিনি নন। বদরুলের আইনজীবী খাদিজার উদ্দেশে প্রশ্ন করে বলেন, আপনি (খাদিজা) বদরুলের রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করতেন কি না? সেই বিষয়টিও খাদিজা অস্বীকার করেন।

আদালতে স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বের হয়ে বদরুলের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, খাদিজা বদরুলের সঙ্গে সম্পর্ক ও সিম ব্যবহারের কথা অস্বীকার করায় বদরুলের ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা হবে। এ ছাড়া বদরুল ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত ছিল বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। এদিকে খাদিজার আইনজীবী আ ক ম শিবলী বলেন, খাদিজা আজ আদালতে হামলার সুস্পষ্ট ঘটনা তুলে ধরেছেন। আমরা আশা করছি ন্যায় বিচার পাব।

 


মন্তব্য