kalerkantho


পরকীয়ার কারণেই মিতুকে হত্যা করে বাবুল: মিতুর মা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৪:৩৬



পরকীয়ার কারণেই মিতুকে হত্যা করে বাবুল: মিতুর মা

মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন মাহমুদার মা ও বাবা। গতকাল রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এ অভিযোগ করেছেন বলে জানান মাহমুদার বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন ও মা শাহেদা মোশাররফ।

তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর মেরাদিয়ার ভূঁইয়াপাড়ায় মাহমুদার বাবার বাসায় যান। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তিনি মাহমুদার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদাকে। এত দিন চুপ থাকার পর এখন কেন বাবুলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করছেন, জানতে চাইলে মাহমুদার মা বলেন, এত দিন অবুঝ দুটি সন্তানের কথা চিন্তা করে মুখ খুলিনি।  

তিনি আরও বলেন, বাবুলের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ কারণে মাহমুদার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন বাবুল। আর এসব কারণে মাহমুদাকে হত্যা করে বাবুল। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে থেকে মাহমুদার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে শুরু করেন বাবুল। দুই বাচ্চাকে বাবুলের কাছে রেখে ঘুম পাড়ানোর অভ্যাসও করান।

মাহমুদাকে হত্যা করা হবে বলে বাবুলের আচরণে এমন পরিবর্তন এনেছিলেন বলে তিনি সন্দেহ করেন।

বাবুলকে নিয়ে মাহমুদার মা-বাবার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্তক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, মাহমুদার পরিবার অনেক কথা বলেছে। তাদের বক্তব্য নিয়েছি। বিভিন্ন দিক থেকে পাওয়া সব তথ্যই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাহমুদা হত্যার পর বাবুলের সম্পর্কে যেসব অভিযোগ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

মাহমুদার বাবা-মায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাবুল আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি। মাহমুদা খুনের পর থেকে বাবুল গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। পুলিশ সুপারের চাকরি থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, মাহমুদা হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের তিন সপ্তাহ পর গত বছরের ২৭ জুন মো. ওয়াসিম ও আনোয়ার নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিনই তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা স্বীকার করেন, কামরুল শিকদার ওরফে মুছার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডে তাঁরা সাত-আটজন অংশ নেন। বাবুল আক্তারের ঘনিষ্ঠ সোর্স হিসেবে কাজ করতেন মুছা।


মন্তব্য