kalerkantho


মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন নষ্ট সাত বছর

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:২৬



মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন নষ্ট সাত বছর

৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা এক্স-রে মেশিনটি গত সাত বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও আজও সেটি মেরামতের কোনো রকম উদ্যোগ নেননি কর্তৃপক্ষ।

আর এরই সুযোগে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রাইভেট এক্স-রে ক্লিনিক।

আর এসব প্রাইভেট এক্স-রে ক্লিনিকগুলোতে এক্স-রে করাতে রোগীদেরকে ৩-৪ গুণ বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে।

ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শত শত রোগীকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, ডাক্তাররা প্রাইভেট এক্স-রে ক্লিনিকগুলো থেকে প্রতিদিন মোটা অংকের কমিশন পান বলেই তাঁরা সরকারি ওই এক্স-রে মেশিনটিকে পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করে রেখেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কোরিয়ান লিস্টেম ৩০০ এমএ ক্ষমতা সম্পন্ন এক্স-রে মেশিনটিতে সরকারি ফিস বাবত ৫৫-৭০ টাকায় রোগীরা এক্স-রে করতে পারত। কিন্তু ২০১০ সাল থেকেই ওই এক্স-রে মেশিনটি মেরামতের অভাবে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়েই প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে গিয়ে ৫৫ থেকে ৭০ টাকার পরীক্ষা ৩৫০-৪০০ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

আর তখন থেকেই ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে রেডিও গ্রাফার রুহুল আমীন তার কোনো কাজ না তিনি শুধু প্রতিদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেন আর মাসে মাসে বেতন উত্তোলন করে আসছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির এক কর্মচারী বলেন, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনে   ৫৫ থেকে ৭০ টাকা ফিস দিয়ে রোগীরা পরীক্ষা করাতে পারতো। কিন্তু তাতে এই হাসপাতালের ডাক্তারদের কোনো লাভ হত না। আর এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট থাকায় এখন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো রোগীদের কাছ থেকে ৩৫০-৪০০ টাকা পরীক্ষা ফিস বাবত আদায় করছে এবং ক্লিনিক মালিকরা তা থেকে আবার অর্ধেক টাকা হাসপাতালের ডাক্তারদেরকে কমিশন হিসেবে দিতে হচ্ছে।

তাই হাসপাতালের ওই এক্স রে মেশিনটি আর কোনো দিন মেরামত করা হবে বলে আমার মনে হয় না।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেডিও গ্রাফার মো. রুহুল আমিন জানান, এক্স-রে মেশিনটির টেনেল বোর্ড ও কন্টোল বোর্ডসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রেজাউল আহসান মুসলিমী কালের কণ্ঠকে বলেন, এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি আমি বারবারই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি।


মন্তব্য