kalerkantho


শেরপুরে জমি নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষ

শেরপুর প্রতিনিধি    

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৩৫



শেরপুরে জমি নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষ

শেরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হালগড়া গ্রামে বিবাদমান দুইপক্ষের সংঘর্ষে হতাহত, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক দুই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, হালগড়া গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে নজরুল ইসলাম (৩৫), ফটিয়ামারি গ্রামের কায়েম উদ্দিনের ছেলে হামিদুর রহমান (২২) ও ফরহাদ আলীর ছেলে আল ফাহাদ রিপন (২৩)।

গ্রেপ্তারকৃতদের আজ শনিবার বিকেলে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনা থামাতে গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশ অ্যাসল্টের ঘটনায় শেরপুর সদর থানা ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম খান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় হালগড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রহিজ উদ্দিন মেলেটারি, আব্দুর রফিক, শহরবানু সহ ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৪০/১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত আব্দুস সাত্তারের ভাই আব্দুল কাদের বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সদর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মামলা দায়ের ও তিনজনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নজরুল ইসলাম নামে একজন সাত্তার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী, অপর দুইজন পুলিশ অ্যাসল্টের মামলার আসামী।  

এদিকে, সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামের হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হুইপ আতিউর রহমান আতিক আজ দুপুরে পরিদর্শন করেছেন। এসময় হুইপ আতিক বিবদমান পক্ষদ্বয়কে সহনশীল ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানান। সেইসাথে তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারকে ২ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৬ হাজার করে টাকাসহ খাদ্য-বস্ত্র ও জ্বালানি সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন। এসময় সদর এসিল্যান্ড মুকতাদিরুল আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মিজু, দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা তার সাথে ছিলেন।

এর আগে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ওইসব পরিবারের সদস্যদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামের একখন্ড জমি নিয়ে মজু মিয়া ও তার ভাই কাদেরের সাথে একই এলাকার রফিক মিয়া ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য রহিজ উদ্দিনের দ্বন্দ্ব চলছিল। গত বৃহস্পতিবার বিরোধপূর্ণ জমিতে উভয়পক্ষের লোকজন রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়লে ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত কাদেরের ভাই আব্দুস সাত্তার গতকাল শুক্রবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষে দেশীয় ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে গ্রামের দু’দিকে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ হালগড়া গ্রামে অবস্থান নেয়। সেসময় রহিজউদ্দিন-রফিকদের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ৩৫টি বাড়ি ঘর ভস্মিভুত হয়।  

অগ্নিকান্ডে ভস্মীভুত পরিবারগুলোর দাবী পরিবারের পুলিশের উপস্থিতিতে মজু-কাদেরের লোকজন ঘরবাড়ীতে আগুন দিয়ে সবকিছু ভস্মীভুত করেছে। কিন্তু, পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রহিজউদ্দিনের লোকজন নিজেদের বাড়ী-ঘর ভাংচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগ করলে সেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ২০/২৫টি বাড়ী-ঘর ভস্মীভুত হয়। রহিজ মেলেটারি লোকজন গ্রামের কয়েকটি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন দেওয়ার সময় এক মহিলাকে পুলিশ ধরে ফেললে পুলিশের ওপর হামলা করে তাকে ছাড়িয়ে নেয় রহিজউদ্দিনের লোকজন। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়। খবর পেয়ে শেরপুর থেকে সদর থানার ওসির নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


মন্তব্য