kalerkantho


মনপুরা থানার ওসির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

শিমুল চৌধুরী, ভোলা    

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:২৯



মনপুরা থানার ওসির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

ভোলার মনপুরা থানার ওসি শাহীন খাঁনের বিরুদ্ধে এলাকার ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ, সাধারণ মানুষকে মারধর, চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার এসব অনিয়মের অভিযোগ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও প্রতিকার মেলেনি।

এতে ক্রমেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী।

ওসির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ফুঁসে ওঠে মনপুরার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। ওই দিন সকালে ওসি শাহীন খাঁন হাজিরহাট বাজারের ফল ব্যবসায়ী হারুনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এর জের ধরে ওসি শাহিন ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবসায়ী হারুন, হাসান এবং আব্দুর রহমানের ফলের দোকানে গিয়ে তাদের মারধর করে তাদের দোকান বন্ধ করে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওসির এ আচরণের প্রতিবাদে হাজিরহাট বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে ওসি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বাজারে এসে জড়ো হওয়া ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হন। তিনি ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। ফলে ব্যবসায়ীরাও উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

সংঘর্ষে ওসি শাহীন খাঁন, তিন-চারজন পুলিশ সদস্য, ব্যবসায়ী, সংবাদিক এবং পথচারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অন্তত ৩০ জনকে মনপুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মাতাব্বর বলেন, "মনপুরা থানার ওসি শাহীন খানের ব্যবহার সব সময়ই ছিল রুক্ষ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সবসময় অসদারণ করতেন তিনি। তাই তার ওপর সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। শুধু মনপুরা উপজেলা নয়, ওসি শাহীন খাঁনের নির্যাতনের শিকার বোরহানউদ্দিনে হকার হানাননও। তার বিরুদ্ধে বোরহানউদ্দিনের পত্রিকার হকারকে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। পত্রিকার হকার হান্নান জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তিনি পত্রিকা বিক্রির জন্য বোরহানউদ্দিন থেকে উপজেলার হাকিমুদ্দিন লঞ্চঘাটে যান। সেখানে  ওসি শাহীন খাঁন তার কাছ থেকে বিনা পয়সায় পত্রিকা চান। হকার বিনা পয়সায় পত্রিকা না দেওয়ায় হকার হান্নানকে প্রকাশ্যে মারধর করেন। একপর্যায়ে ওসি শাহীন খাঁন হকারকে লঞ্চের একটি কেবিনে আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন হকার হান্নান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনা হকার হান্নান ভোলার পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেনকে জানান। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে হকারকে আশ্বস্ত  করেন। ওই সময় ওসি শাহীন খাঁন সাংবাদিকদের কাছে হকার হান্নানকে মারধরের কথা স্বীকার করেন।

এদিকে, পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে বুধবার রাতে মনপুরা থানায় মামলাটি দায়ের করে। এতে অজ্ঞাত প্রায় ৩০০  জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মনপুরা থানার ওসি শাহিন খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, মনপুরা থানার ওসিকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, এর কোনও সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত ওসি শাহীন খাঁন চিকিৎসা জন্য থানার বাইরে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তার কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মনপুরা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই হাদিস বলেন, "এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। বিষয়টি এখন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাতে। তাই তারাই এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন। " ওসির অচদারণের বিষয়ে তিনি বলেন, "ওসির ব্যবহার সব সময়তো আর এক রকম হবে না। একেক জনের কাছে একেক রকম ব্যবহার হয়ে থাকে। এ ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসির বিরোধের কারণে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। "

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি সার্কেল) রফিকুল ইসলাম বলেন, "মনপুরা থানার ওসি শাহিন খানকে বরখাস্ত করা হয়নি। মনপুরায় পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় ব্যবসায়ীদের ছোড়া ইটপাটকেল নিক্ষেপে ওসি গুরুতর আহত হন। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। " পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন বলেন, "ব্যবসায়ীদের দোকান সরিয়ে ফেলা নিয়ে বুধবার পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ওসি আহত হয়েছেন। তাই তিনি একজনকে দায়িত্ব দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। " তিনি বলেন, "পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত প্রায় ৩০০ জনকে আসামি  করে মনপুরা থানায় পুলিশ এসল্টের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। " পরিস্থিতি এখন শান্ত বলেও জানান এসপি।  

 


মন্তব্য