kalerkantho


দেড়যুগ পর শিকল মুক্ত হলো দুই বোন

জমালপুর প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:১৮



দেড়যুগ পর শিকল মুক্ত হলো দুই বোন

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের আদারভিটা গ্রামের দুই বোন প্রায় দেড়যুগ শিকল বন্দী থাকার খবর কালেরকন্ঠে প্রকাশিত হলে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধায় সেখানে ছুটে যান জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান। সেখানে গিয়ে তিনি স্থানীয় লোকের সহযোগীতায় দুই বোনকে শিকলমুক্ত করেছেন এবং তাদের চিকিংসা ও পূর্ণবাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন। এছাড়াও শিকলবন্দি ওই দুই বোনের উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদির এসবি গ্রুপের মালিক হাজি বশির আহম্মেদ ও যশোর জেলার চাতালপুর এলাকার ট্রাক ড্রাইভার জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন প্রবাসী ইতিমধ্যেই তাদের আর্থিক সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানাগেছে।  

সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ আদারভিটা গ্রামে বাস ওই দুই বোনের। বড় বোন পাপড়ি খাতুন (৩৩)। ছোট বোন অনন্যা খাতুন (৩০)। আজ থেকে প্রায় দেড়যুগ আগে হেসে খেলেই দিন কেটেছে তাদের। একপর্যায়ে তাদের বাবা আব্দুল মান্নান ও শাহীনা বেগম মারা যান। এরপর তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এ কারণে দেড় যুগ ধরে তাদের শিকল পরিয়ে রাখছেন স্বজনরা। ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান (১২) অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

সংসার সামলাতে গিয়ে আরেক ভাই সম্রাট মিয়ার (১৯) পড়ালেখা হয়ে ওঠেনি।  

শিকলবন্দী দুই বোনের পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, গরিব হলেও সুখী পরিবার ছিল আব্দুল মান্নানের। তিনি উপজেলা পরিসংখ্যান বিভাগের ছোট পদে চাকরি করতেন। আদারভিটা উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ১৯৯৯ সালে পাপড়ি খাতুন আর ২০০১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় অনন্যা খাতুনের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বন্ধ হয় লেখাপড়া। পাবনা মানসিক হাসপাতালে কয়েক মাস রেখে চিকিৎসাও করানো হয়। এরপরও ভালো না হওয়ায় সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে ২০০৪ সাল থেকে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয় তাদের।  

ছোট ভাই সম্রাট মিয়া বলেন, আপনেরা আসার পরদিন থেকে অনেক ও পত্রিকায় নিউজ ছাপা হওয়ার পর লোকজন বাড়িতে এসে ও মুঠোফোনে সহযোগিতা কারার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আপনাদের কল্যাণে আমার দুই বোন আবার চিকিৎসা সেবা পেতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক এসে চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতার করার আশ্বাস দিয়েছেন। দুই বোন আবার সুস্থ্য হয়ে যাতে বাড়ি ফিরতে পারেন এর জন তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।  

জেলা প্রশাসক মো.শাহাবুদ্দিন খান বলেন,তাদের পরিবারে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি নাই। তাদের দুই ভাই রয়েছেন। তাদের মধ্যে সম্রাট মিয়া বাড়ির সকল সাংসারিক কাজকর্মসহ দুই বোনের দেখাশুনা করে। দুই বোনকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। সেখানে তাঁদের দেখাশুনার জন্য একজন নারী সদস্যের দরকার। সেজন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বলেছি। আগামী মাসেই তাদের চিকিৎসার জন্য সেখানে পাঠানো হবে। এছাড়াও পরিবারটি যাতে স্বচ্ছলভাবে চলতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।


মন্তব্য