kalerkantho


রানা প্লাজা ধসের ৪৬ মাস

সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন-বিক্ষোভ

শিল্প ও শ্রমিকের বাঁচার মতো মজুরি, প্রকৃত ট্রেড ইউনিয়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)    

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৩৮



সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন-বিক্ষোভ

রানা প্লাজা ধসের ৪৬ মাসেও ভবনের মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ার প্রতিবাদে সাভারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি রানা প্লাজা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

একইসঙ্গে শিল্প ও শ্রমিকের স্বার্থে বাঁচার মতো মজুরির দাবি করা হয়। এসব  কর্মসূচিতে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাভার থানা শাখার সম্পাদক আলম মাতব্বর। বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপ্রধান তাসলিমা আখ্তার, রানা প্লাজা শাখার সদস্য রূপালী আক্তার, নিহত শ্রমিক ফজলে রাব্বির মা রাহেলা বেগম, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক প্রদীপ রায় প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি রানা প্লাজা ধসের ৪৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে। সারা দুনিয়ার কারখানা ইতিহাসে রানা প্লাজা ধসের ঘটনা হাজারো শ্রমিক হত্যার মতো ঘটনা বিরল। অথচ এখনও সরকার দোষী ভবন মালিক সোহেল রানাসহ কারখানার অন্যান্য মালিক ও দোষী সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি নিশ্চিত করেনি। বক্তারা বলেন, সোহেল রানাসহ দোষী সরকারি কর্মকর্তা যারা অভিযুক্ত সবার শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা যাবে না। হাজার শ্রমিকের প্রাণ হারালেও সরকার ও মালিকপক্ষের কাছে হয়তো এসব জীবনের কোনও  মূল্যই নেই।

বক্তারা আরো বলেন, তাজরীনে শত শ্রমিক আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে মালিক নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

অন্যদিকে হাজার শ্রমিকের প্রাণ ও স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে সোহেল রানাসহ অন্যান্য দোষীরা আইনের ফাঁক ফোঁকড় গলে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকে জামিনে বাইরে রয়েছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিক ও জনগণ আশা করেছিল সরকার উদ্যোগী হয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে উদ্যোগ নেবে। কিন্তু গত ৪৬ মাসেও দোষীরা শাস্তি পায়নি। তাঁরা বলেন, ইমারত মামলায় ১৮ জন আসামি হলেও জেলে রয়েছে সোহেল রানাসহ মাত্র তিনজন। ১০ জন ইতিমধ্যে জামিনে বের হয়ে গেছে এবং পাঁচজন পুলিশের চোখে পলাতক। সরকারি কর্মকর্তাদের এখন পর্যন্ত আইনের আওতায় আনাই হয়নি।

বক্তারা আরো বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীনসহ দুর্ঘটনার নামে কাঠামোগত হত্যা ও  দোষীদের শাস্তি না হওয়া বাংলাদেশের সব শ্রমিকের জন্য একটি অশুভ লক্ষণ। এতে একদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না, অন্যদিকে আইনের ফাঁকফোঁকড় গলে বেড়িয়ে যাচ্ছে দোষীরা। তাঁরা শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিক হত্যাকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সরকারি ঘোষণার নিন্দা ও প্রতিবাদ করে বক্তারা বলেন, একেতো পোশাক শ্রমিকরা যে মজুরি পান তাতে তাদের জীবন চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই কথা বলায় শ্রমিক এবং শ্রমিক সংগঠনের ওপর নেমে এসেছে অত্যাচার, দমন পীড়ন। তারপরও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি শ্রমিকদের জীবনকে করে তুলবে বিপর্যস্ত। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, যাতায়াত খরচসহ সব কিছুর দাম বাড়বে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসাথে শ্রমিকদের বাঁচার মতো ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানান। আশুলিয়াসহ সর্বত্র সকল শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা প্রদান বন্ধ করারও দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

 


মন্তব্য