kalerkantho


সুনামগঞ্জে ধর্মপাশার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসলহানি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১২



সুনামগঞ্জে ধর্মপাশার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসলহানি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার অন্যতম বড় হাওর চন্দ্র সোনারথাল হাওরের শয়তানখালি ফসলরক্ষা বাঁধে যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় আজ বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আজ সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত এ হাওরের প্রায় ১২৫ একর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে কৃষকরা জানান। এদিকে যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় ফসলহানির ঘটনায় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের আওতাধীন শয়তান খালী ফসল রক্ষা বাধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই কাজ নিয়ে গাফিলতি শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ পর্যন্ত ৭০ ভাগের উপরে কাজ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ১০ ভাগও কাজ হয়নি।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল হাওরের শয়তান খালী হাওরে প্রায় ৫০০ একর বোরো জমি রয়েছে। এই বাঁধটি হাওরের ফসলরক্ষা করে থাকে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি যথা সময়ে প্রাক্ষলন অনুযায়ী কাজ না করায় শুরু থেকেই হুমকিতে ছিল এই হাওর। আজ সকাল থেকে ধিরে ধিরে পানি ডুকতে শুরু করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ছিল নির্বিকার। এ পর্যন্ত প্রায় ১২৫ একর জমির কাচা বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের আওতাধীন শয়তাল খালী হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ সংস্কার ও মেরামতের জন্য এ বছর প্রায় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কাজ শুরুর কথা থাকলেও চলতি মাসে শুরু হয়েছে কাজ। ফলে হাওরের বাধটি ঠেকসই না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতেই ভেঙ্গে গিয়ে হাওর তলিয়ে গেছে।

চন্দ্রসোনার থাল হাওরের মান্দারবাড়ি গ্রামের প্রবীণ কৃষক জালাল মিয়া (৭০) বলেন, পাউবোর কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে আমাদের হাওরে ফসল ডুবির ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের শাস্তিসহ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিও এর দায় এড়াতে পারেনা। সুখ্ইাড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও প্রকল্প চেয়ারম্যন আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাসময়ে বরাদ্দ না দেওয়ায় কাজ শুরু করতে পারিনি। যে জন্য কাজ করতে দেরি হয়েছে। এই ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডই দায়ি বলে জানান তিনি।

ধর্মপাশা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন কবীর বলেন, আমরা সরোজমিনে গিয়ে ওই বাধে কোনো শ্রমিকককে কাজে পাইনি। তবে নতুন করে আর যাতে হাওরের বোরো জমির কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও প্রকল্প চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।  
সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছর উদ্দিন রাত ৯টায় সাংবাদিকদেরকে চন্দ্রসোনার থাল হাওরের বাধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, সামান্য পানি ঢুকেছে। বাঁধটির যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য কাজ করছি আমরা।


মন্তব্য