kalerkantho


সিরাজগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে দিনমজুরের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৩৩



সিরাজগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে দিনমজুরের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে থানায় কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলামের হেফাজতে থাকা এক দিনমজুরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ এ তথ্য জানান।

 

বুধবার রাতে টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেরার সীমান্তবর্তী এলাকা বন্যা মোড় থেকে নাগরপুর উপজেলার দেওজান সলিল গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে ঠান্ডু মিয়াকে (৪৫) আটক করে চৌহালী থানায় নেয়ার পথে মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে সে মারা যায়। এ ঘটনার পর নিহতের স্বজনেরা পুলিশের মারপিটে মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করলেও এএসআই রবিউল ইসলাম দাবী করেছিলের চলন্ত মটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালাতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।  

নিহতের শ্বশুর রায়হান আলী অভিযোগ করেছিলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর পাশের (চৌহালী উপজেলার অর্ন্তগত) বন্যা মোড়ে দিনমজুর জামাতা ঠান্ডু মিয়া অবস্থান করছিলো। এমন সময় চৌহালী থানার এএসআই রবিউল ইসলাম মটরসাইকেলযোগে সাদা পোশাকে একা সেখানে পৌছে ঠান্ডুর হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে টানাহেচড়া শুরু করে। সেখানে আশপাশের বেশ কিছু লোকজন জমায়েত হয়ে তার কাছে আটকের কারন জানতে চাইলেও তিনি বলেনি। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ঠান্ডুকে মটরসাইকেলের পিছনে তুলে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরই জানতে পারি জামাতাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এখানে এসে পেলাম জামাতার লাশ। তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে।

ঠান্ডুকে এএসআই রবিউল অন্যায়ভাবে আটকের পর মারপিট করে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই। ঠান্ডুর বিরুদ্ধে কোন থানায় একটি মামলাও নেই বলে দাবী করেন তিনি।   

এ ঘটনার পর এএসআই রবিউল ইসলাম বলেছিলেন, থানার ওসি আকরাম হোসেনের নির্দেশে ঠান্ডু মিয়াকে আটক করেছিলাম। মটর সাইকেলে আনার পথে সে লাফ দিয়ে পালানোর সময় মাথায় গুরুতর জখম হয়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধারের পর নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঠান্ডুকে মৃত ঘোষনা করেন। সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, ইতোমধ্যেই এএসআই রবিউল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে, সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত ঠান্ডু মিয়ার লাশ সাড়ে বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে থানার ওসি আকরাম হোসেন আজ বিকেলে মোবাইলে বলেন, অফিসিয়াল কাজে বুধবার সিরাজগঞ্জ জেলা সদরে ছিলাম। আমি ঠান্ডুকে আটকের নির্দেশ দেয়নি। এএসআই রবিউল ইসলাম মিথ্যা বলেছে।


মন্তব্য