kalerkantho


পথচারীসহ গুলিবিদ্ধ ৩০, আহত অর্ধশতাধিক

মনপুরায় পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

ভোলা প্রতিনিধি    

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৫২



মনপুরায় পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

ভোলার মনপুরায় পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অন্তত ৩০ জনকে মনপুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মনপুরা থানার ওসির সঙ্গে ব্যবসায়ীর বাক-বিতণ্ডার জের ধরে আজ বুধবার সকালে উপজেলা সদরের হাজিরহাট বাজারে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে মনপুরা থানার ওসি শাহীন খাঁনের সঙ্গে উপজেলা সদরে অবস্থিত হাজিরহাট বাজারের ফল ব্যবসায়ী হারুনের বাক-বিতণ্ডা  হয়। একপর্যায়ে ওসি শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে হারুন, হাসান ও আব্দুর রহমানের ফলের দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধর করে তাদের দোকান বন্ধ করে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওসির ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদে হাজিরহাট বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে ওসি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বাজারে এসে জড়ো হওয়া ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হন। তিনি ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষে পুলিশ, ব্যবসায়ী, সংবাদিক ও পথচারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ খোরশেদ আলম কুট্টি (৫০), শোয়েব (৩০), ইব্রাহীম (২৮), নাহিদ (১৫), কবির (২৪), হারুন (৩৫), আরিফ (৩০), তরিকুল (৪০), নুরুদ্দিন (২৪), শরিফ (২৪), আবু তাহের (৩৫), ইব্রাহীম (২৮), আব্দুর রহমান (৩৫), হারুন (২৪), রাকিব (১৮), হোসেন (২৫), মিজান (৩৫), জামাল (৩০), হেলাল (১৬), মালেক (৩০), মোসলেহ উদ্দিন (২০), লিটন ফরাজী (৩৫), নুরুল ইসলাম (৩০), নুরু (৩৬) ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মাতাব্বরসহ অন্তত ৩০ জনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে তজুমদ্দিন থানার ওসি শাহীন খাঁন, এএসআই প্রদীপ, কনস্টেবল জুনায়েদ, আরিফ বিল্লাহ, জসিম, আ. হালিম, নাঈম এবং সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মামুন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বলেন, "ওসির অত্যধিক দুর্ব্যবহারের কারণে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন। " ওসির আচরণের কারণে সৃষ্ট ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত  ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। মনপুরা থানার ওসি শাহীন খাঁন বলেন, "রাস্তার ওপর ফল ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে ফল বিক্রি করায় আমি তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য বলেছি। পরে ব্যবসায়ীরা আমার ওপর ক্ষেপে যান। "

মনপুরা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশীদ বলেন, "হাসাপাতালে ৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আতঙ্কে সবাই হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। গুরুতর একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। " বিকেলে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত উপজেলা সদরের বাজারে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। যেকোন সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।  
পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, ব্যবসায়ীদের  দোকান সরিয়ে ফেলা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষেরই লোকজন আহত হয়েছে। "  পরিস্থিতি এখন শান্ত বলেও জানান এসপি।  

 


মন্তব্য