kalerkantho


মাস না পেরুতেই বিদ্যালয়ের গাছ কাটছেন সভাপতি!

মেহেরপুর প্রতিনিধি    

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:২৮



মাস না পেরুতেই বিদ্যালয়ের গাছ কাটছেন সভাপতি!

পাশের বাগানের ক্ষতির দোহাই দিয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলার হাসনাবাদ সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি পুরনো কড়ই গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানি আমিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তবে সভাপতির দাবি, বিদ্যালয়ের পাশের বাগান মালিকের ক্ষতি হচ্ছে এমন অভিযোগের কারণে সবাই মিলে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকে কয়েকজন শ্রমিক হাসনাবাদ সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কড়ই গাছ কাটতে শুরু করে। গাছের সব ডালপালা কেটে দুটি পাওয়ার ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, কয়েক বছর আগে এ ধরনের বড় একটি কড়ই গাছ একইভাবে কেটে ফেলা হয়। তখন কেউ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, সবসময় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনও কথা বলতে পারেন না। নতুন সভাপতি যোগদানের মাসখানেক না হতেই গাছ কাটায় এলাকায় নানারকম গুঞ্জন চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে গাছটি কাটা হচ্ছে তার বয়স অন্তত ১২ বছর হবে।

ব্যাস আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় ফুট এবং দৈর্ঘ্য হবে ১৫ থেকে ২০ ফুট। আর পাশের বাগানের আমগাছগুলোর বয়স খুব বেশি হলে চার থেকে পাঁচ বছর হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফাজ হোসেন বলেন, "আমি আজ ( বুধবার) থেকে দুই দিনের ছুটিতে এসেছি। গাছ কাটার খবর পাওয়ার পর সভাপতিকে বলে গাছ কাটা বন্ধ করেছি এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি। "

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানি আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, "পাশের একটি আম বাগান মালিকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মিটিংয়ে সদস্য ও অভিভাবকরা মিলে গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে মোতাবেক গাছটি কাটা হচ্ছে। তবে অভিযোগ পাওয়ায় গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। গাছ কাটার এখতিয়ার কমিটির রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, "আগামীকাল কমিটির লোকজন নিয়ে অফিসে যাব। আপনার সঙ্গেও যোগাযোগ করব। " পরে গাছ কাটার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "গাছ কাটার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং কোনও রেজুলেশন করা হয়নি। "

এ ব্যাপারে মেহেরপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আপিল উদ্দিন বলেন, "বিদ্যালয়ের গাছ কাটার এখতিয়ার প্রধান শিক্ষক বা কমিটির সভাপতি কারো নেই। গাছ কাটার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের (এলাকার) দায়িত্বরত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম সুলতানকে ওই বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। "  সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম সুলতান বিদ্যালয় পরিদর্শন করে গাছ কাটার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "সামান্য কিছু ডালপালা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আছে। বেশির অংশই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় রেজুলেশন বহি দেখা গেল না। "  

 


মন্তব্য