kalerkantho


ভিন্ন এক আয়োজন, বাইসাইকেলে বরসহ যাত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:৪১



ভিন্ন এক আয়োজন, বাইসাইকেলে বরসহ যাত্রী

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মঙ্গলবার দুপুরে এক অভিনব বরযাত্রা দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে ছিলেন পথচারীরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যাত্রাবিরতির সময় কেউ কেউ বরকে নিয়ে তুলেছেন সেলফি।

আর বরযাত্রী সাইকেল আরোহীদের মাঝে ছিল ভিন্ন রকম উচ্ছ্বাস। বর শরিফুল ইসলাম হিরণ (২৮) নিজে সাইক্লিস্ট। যে কারণে বিয়ের দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। হিরণ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের কেওড়া ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এর মালিক। হিরণ ডুমুরিয়ার রাজিবপুর গ্রামের ব্যাংকার শেখ মো. রাশেদুল ইসলামের ছেলে। বিয়ে করতে আসছেন খুলনার পুরনো গল্লামারীর কুবা মসজিদসংলগ্ন কন্ট্রাক্টর আব্দুল মুতালিব তালুকদারের মেয়ে তাসনিয়া তাবাসসুম শিউলীকে। যিনি সম্প্রতি সরকারি আযম খান কমার্স কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। খুলনা মহানগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ বিয়ে।

কেন সাইকেলে বিয়ে করতে যাচ্ছেন জানতে চাইলে হিরণ বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সাইকেল চালিয়ে সমগ্র বাংলাদেশ ভ্রমণ করব।

সেই স্বপ্ন পূরণ করেছি ২০১৪ সালে। অনেক ভাবেই বিয়ে করতে বরযাত্রী যাওয়ার প্রচলন আছে এ দেশে। কেউ শখ মেটাতে হেলিকপ্ট‍ার, পালকি, ঘোড়ার গাড়ি ও গরুর গাড়িতে করে বিয়ে করতে যায়। আবার কেউ কেউ বরযাত্রী যাওয়ার জন্য নৌকা কিংবা লঞ্চ ব্যবহার করেন। আমি যেহেতু সাইক্লিস্ট তাই বাইসাইকেলে চড়ে বিয়ে করতে এসেছি। সাইক্লিং আমার নেশা। পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সবার হৃদয়ে পৌছে দেয়ার জন্যই শখের বশেই এ আয়োজন। কতজন বর যাত্রী আসছেন জানতে চাইলে শিক্ষিত তরুণ ব্যবসায়ী হিরণ বলেন, মোট বরযাত্রী ৬০ জন। তার মধ্যে ২০ জনের মতো বাইসাইকেলে। যারা বৃদ্ধ, নারী-শিশু ও সাইকেল চালাতে পারেন না তাদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
 
কনে কিভাবে বাড়িতে নেবেন প্রশ্নের জবাবে হিরণ হেঁসে দিয়ে বলেন, তাকে আমার সাইকেলে তোলে নেওয়ার ইচ্ছা আছে। এদিকে বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে মহানগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কমিউনিটি সেন্টারে বাইসাইকেল বহর নিয়ে শেরোয়ানি ও পাগড়ি পরা বর পৌছানোর পর অভিভূত মানুষজন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে যান তাদের দেখতে। কনের বাড়ির লোকজনও পেলেন নতুন আমেজ। হলো ভিন্ন রকমের আনন্দ ফুর্তি। খুলনায় অতীতে কোনো বিয়ের বরযাত্রা এভাবে বাইসাইকেলযোগে হয়েছে কি-না নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 


মন্তব্য