kalerkantho


সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৫:৩৪



সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা

বেনাপোল আর পেট্রাপোলোর মাঝে অবস্থিত সীমান্তের শূন্য আঙিনা গতকাল মঙ্গলবার একুশের সকাল থেকেই মুখরিত ছিল দুই বাংলার মানুষের পদচারণায়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অমর হোক বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষা চালু হোক এই স্লোগান নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে বাংলাদেশের বাঙালিদের সঙ্গে সমবেত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কড়া। তার মধ্যেই  আড্ডা আর স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন সবাই। হিলি ও ছাগলনাইয়া-শ্রীনগর সীমান্ত হাট এলাকাতেও একই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সীমান্তের শূন্য আঙিনা মুখর ছিল নাচ, গান, আবৃত্তি আর দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ীদের পদচারণায়। এক সময় বাংলাদেশ ও ভারত অংশে আলাদাভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এবার যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেনাপোল ও বনগাঁও পৌরসভা।

সকালে সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রথম ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তথ্য ও প্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী শ্রীমতি ব্রাত্য বসু, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্রাচার্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার, বিজিবির অধিনায়ক কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন ও যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।

শূন্য আঙিনায় নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চে ছিল মূল আয়োজন। অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী খুরশিদ আলম, রথিন্দ্রনাথ রায় ওপার থেকে আসা শিল্পী অরুন্ধতী হোম চৌধুরী, অর্পিতা চক্রবর্তী সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে আরো হাজির ছিলেন খ্যতনামা সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, কবি আসাদ চৌধুরী, নাট্যকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। এ উপলক্ষে নোম্যান্স ল্যান্ডকে সাজানো হয় দুই দেশের পতাকা, নানা রঙয়ের ফেস্টুন, ব্যানার ও ফুল দিয়ে।  ভাষা দিবসের এই অনুষ্ঠানে বিজিবি বিএসএফকে  শুভেচ্ছা জানায় ফুল দিয়ে।

দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের শূন্য আঙিনায় সৌহাদ্য ও সম্প্রীতির প্রয়াসে অমর একুশে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার এপার বাংলা-ওপার বাংলার বাংলাভাষী মানুষের মিলন মেলা বসেছিল।


মন্তব্য