kalerkantho


গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০০



গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী যৌন হয়রানীসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ জেলা শহরের চলছে আলোচনা সমালোচনা।

 

ওই শিক্ষকের নাম রবিউল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। তাঁর বাড়ী ফরিদপুর জেলার সদরপুরে। অভিযোগকারী ছাত্রী হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষে অধ্যায়নরত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি বরাবরে এর প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রভাষক রবিউল ইসলামের সাথে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে শিক্ষক রবিউল ইসলাম বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ওই ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক মিলিত হয়। সর্বশেষ গত ১৪ জানুয়ারি রবিউল ইসলাম ছাত্রীটিকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে শরীরিক সম্পর্ক করেন। এরপর সে তার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।

তাকে দেওয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতিও ভঙ্গ করেছেন। বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওই শিক্ষক তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও ওই ছাত্রী তার নিজ হাতে লেখা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুত্র জানিয়েছেন, ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি'র লোক বলে পরিচিত। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই শিক্ষক ভিসির প্রভাব খাটিয়ে ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া ওই ছাত্রীকে ভিসির লোকদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে শান্ত করার চেষ্টা চালাছে।  

তারা আরও জানান, রবিউলের বড় ভাই মোঃ কামাল হোসেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যন বিভাগের সভাপতি। কামাল হোসেনের আত্মীয় (ভায়রা) রফিকুল ইসলাম গণিত বিভাগের প্রভাষক, ভায়রা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী সোনিয়া নাসরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল এন্ড কলেজে এই ভিসির সময়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করায় তারা স্বভাবতই প্রভাব খাটিয়ে থাকেন। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতেও সাহস পান না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শির্ক্ষীদের সূত্রে জানাগেছে, স্যারকে মাঝে মধ্যে দেখতাম ওই ছাত্রীর সঙ্গে আলাপ করতে। বিষয়টি আমাদের সন্দেহ হতো। অভিযোগ হওয়ার পর বুঝতে পারলাম তাদের সম্পর্কটা কোন ধরণের ছিল। বিষয়টি যদি সঠিক হয় তাহলে এর উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, কিছু মানুষের প্ররোচনায় ওই ছাত্রী আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। পরে ভুল বুঝতে পেরে ওই ছাত্রী তার বাবাকে সঙ্গে করে ভিসি ও অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে দেখা করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য আরেকটি আবেদনও করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. প্রফেসর নুরউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে হাতে লেখা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিত্বে  আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং শেষে তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের রির্পোটের উপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমার কাছে এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। আসলে নিয়মানুযি ব্যবস্থা  গ্রহণ করবো। তবে আমাকে জড়িয়ে যেসব বিষয় উঠে এসেছে সেটা আমার জানা নেই।


মন্তব্য