kalerkantho


পুঠিয়ায় কিশোরকে মাথার চুল কেটে দিয়ে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:২৮



পুঠিয়ায় কিশোরকে মাথার চুল কেটে দিয়ে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

রাজশাহীর পুঠিয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোরকে মাথার চুল কেটে দিয়ে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরের নাম নাজমুল হক (১২)। সে বারোইপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করা হয় ওই শিশুটিকে। আজ মঙ্গলবার সকালে পুঠিয়া সদরের খাঁন ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।  
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুঠিয়া সদরের খাঁন ফিলিং স্টেশনে দাঁড় করে রাখা ‘বিপি পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে সিডি ডিক্স চুরি হয়ে যায়। ভোর ছয়টার দিকের এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ওই বাসের সুপারভাইজারসহ চালক এবং তার সহযোগীরা কিশোর নাজমুলকে আটক করে। এরপর তাকে ফিলিং স্টেশনে দাঁড় করে রাখা একটি ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা নাজমুলকে বেঁধে রাখা হয়। শেষে সকাল ১০ টার দিকে মাথার চুল কেটে এবং মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া হয় নাজমুলের। এরপর গাড়ীর সুপারভাইজার নুরুল ইসলাম, চালক আক্কেল হোসেন, সহকারী আলমগীর হোসেন, জুলমত আলী ও মিন্টুসহ পাম্পের দুই কর্মচারী মিলে পেটাতে থাকেন নাজমুলকে।

পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে নাজমুল হককে ছেড়ে দেওয়া হয়।  
এ ঘটনার পরে খবর পেয়ে নাজমুল হককে তার বাবা এসে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে বিকেলে ছেলের বিচার দাবিতে নাজমুলকে নিয়ে পুঠিয়া থানায় যান বাবা হাফিজুর। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গাড়ীর চালক নুরুল ইসলামকে আটক করে।
তবে খাঁন ফিলিং স্টেশনের মালিক আল মামুন খাঁন বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে বিপি পরিবহণের চালকসহ অন্য কর্মচারীরাই ছেলেটিকে মেরেছে বলে শুনেছি। ’ 
জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় ওই গাড়ীর চালককে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।  


মন্তব্য