kalerkantho


রৌমারী কাস্টম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৩৩



রৌমারী কাস্টম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রৌমারী কাস্টম কর্মকর্তার আওতায় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার ২২টি গরু মাত্র ৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। কাস্টমস কর্মকর্তা ও বিজিবি জোয়ানরা গরু ব্যবসায়িদের সঙ্গে আঁতাত করে পানির দরে ওই নিলামে গরু বিক্রি করে বলে যানা যায়।

যেখানে ২২টি গরুর নিলাম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা সেখানে এত কমে কিভাবে নিলাম দেয়া হলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরের পর ৩৫ ব্যাটালিয়নের বাঘারচর বিজিবি ক্যাম্পে ওই নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয়সূত্রে যানা যায়, নিলামে বিক্রি করা ওই ২২ গরু গত বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাতে আন্তর্জাতিক মেইন সীমানা পিলার ১০৭৪ এর নিকট মাখনেচর সীমান্ত দিয়ে পার করার সময় বিজিবির হাতে ধরা পড়ে। এ সময় চোরাচালানকারি চক্র গরু ফেলে পালিয়ে যায়। বিজিবি'র হাতে আটক গরুগুলো নিয়ম অনুসারে কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পরিবহনে সমস্যার কারনে ক্যাম্পে রেখেই কাস্টমস কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিলামে অংশ নেওয়া কেরামত আলী ও শামীম মিয়া জানান, '২২ জন গরু ব্যবসায়ি নিলাম কার্যক্রমে অংশ নিয়ে টাকা জমা দেয়। নিলামের এক পর্যায়ে একজন বাদে সকল অংশগ্রহণকারিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পের বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।  

এরপর মিষ্টার আলী নামের ওই একজনের সঙ্গে গোপন আঁতাত করা হয়। ছোট বড় মিলে ২২টি গরুর আনুমানিক বাজার মূল্য হবে ১০ লাখ টাকারও বেশি।

সেখানে মিষ্টার আলী নামের গরু ব্যবসায়ির কাছে ওই ২২ গরু নিলামে বিক্রি করা হলো মাত্র ৩ লাখ ২০ হাজার টাকায়। আমাদের নিলামে ডাক দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। ' 

পানির দরে নিলামে বিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রৌমারী কাস্টমস কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, 'নিয়ম অনুসারেই নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম ও গোপন আঁতাত বলতে কিছু নেই। ' ২২ গরুর নিলাম মূল্য কত ছিল-এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '৬লাখ ৬০ হাজার টাকা নিলাম মূল্য নির্ধারণ করা হলেও অংশগ্রহণকারিরা ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ওপরে কেউ বলেনি। ফলে ওই টাকাই বিক্রি করা হয়েছে। '

নিলামে অংশগ্রহণকারিদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বাঘারচর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার গোলাম মোর্শেদ বলেন, 'অভিযোগ সত্য নয়। এখানে উম্মুক্ত নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। ' 

উপজেলা নিলাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নানা ব্যস্ততার কারণে কাস্টমস কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে নিলাম কার্যক্রম শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পানির দরে বা অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখব।  


মন্তব্য