kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

পাহাড়িদের মাতৃভাষায় প্রথম পাঠ্যবই, সংকট শিক্ষকের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:৪৮



পাহাড়িদের মাতৃভাষায় প্রথম পাঠ্যবই, সংকট শিক্ষকের

বাংলাদেশ সরকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পড়াশোনার জন্য এবার নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করেছে। এসব গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পড়াশোনার সুযোগ এর আগে কিছুটা মিলেছে উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায়।

কিন্তু সরকারি উদ্যোগে এবারই প্রথম তারা মাতৃভাষায় লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু এসব ভাষা লিখতে ও পড়তে জানে এমন শিক্ষকের অভাবে এই উদ্যোগের তেমন একটা সুফল মিলছেনা বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পড়ার জন্য বই বিতরণ শেষ হয়েছে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। আপাতত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, এবং সাদ্রি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় একটি করে বই দেয়া হয়েছে। এদের জন্য সারা দেশে প্রায় ২৫ হাজারের মতো বই বিতরণ করা হয়েছে। বই বিতরণ হলেও এসব ভাষা লিখতে ও পড়তে জানে এমন শিক্ষকের অভাবে সেগুলো পড়েই আছে।

সমস্যা হলো, স্কুলগুলোতে যে শুধুমাত্র একটিমাত্র সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী পড়ে তা নয়। বেশ কিছু স্কুল রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের। রাঙ্গামাটি শহরের চেয়ারম্যান পাড়ায় একটি সরকারি স্কুলে রয়েছে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা শিক্ষার্থী একসাথে পড়ালেখা করে।

 

প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষিকা মেফ্রু মারমা বলছিলেন, 'বইগুলো আমরা পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ আসেনি অফিস থেকে, আমরা কোনও ট্রেনিং পাই নাই। তাই বেশি কিছু করা হয়নি। ' তিনি আরও বলেন, 'আমরাতো আগে কখনও মারমা বা চাকমা বর্ণের বিষয়ে কিছু জানি নাই, বর্ণগুলোর সাথেতো আমরা পরিচিত না। '

বইগুলো কীভাবে পড়ানো হবে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ আগে থেকে দেয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। আর বর্ণগুলো সম্পর্কে ঠিকভাবে না জানাটা হয়েছে ভিন্ন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের জন্য একটা সমস্যা।

তবে সরকারের দেয়া নতুন বই পেয়ে কেমন লাগছে তা অবশ্য শিশুদের কাছ থেকে জানা যায়নি। স্কুল শিক্ষক জ্যোতির্ময় চাকমা জানান, সরকারের দেয়া একমাত্র বইটিতে আছে ছবির মাধ্যমে বিভিন্ন সংখ্যার সাথে পরিচয়, বর্ণ পরিচয়ের বিষয়।

অন্যদিকে রাঙ্গামাটির বাসিন্দা প্রতিমা চাকমা - বাবা-মায়ের অবর্তমানে তিনি নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করেন। নিজের ভাষাতে কখনও লিখতে ও পড়তে শিখেননি প্রতিমা চাকমা। কিন্তু শিশুরা এখন সেই সুযোগ পাচ্ছে তাতে তিনি বেশ খুশি। 'বাংলাদেশে আছি বলে আমি বাংলা ভাষায় সব বুঝি। আমাদের ভাষায়তো বুঝতে পারি নাই, লেখাও বুঝি নাই। শিশুরা এখন বুঝতে পারবে। এতে খুশি লাগছে'- বলছিলেন প্রতিমা চাকমা।


মন্তব্য