kalerkantho


কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর

আবাদি জমিতে নির্মিত সেই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি    

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:০৯



আবাদি জমিতে নির্মিত সেই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আবাদি কৃষি জমির বিশাল এলাকা নিয়ে নির্মিত ইটভাটাটি অবশেষে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত শনিবার কালের কণ্ঠের প্রিয়দেশ পাতায় 'অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ বিপন্ন, আবাদি জমি নষ্ট' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচনা-সমালোচনার  সৃষ্টি হয়। এতে টনক নড়ে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। সর্বশেষ সংবাদটি প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মধ্যে গতকাল সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো.ছামছুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার মৌকরা-তিলিপ গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে আবাদি কৃষি জমিতে নির্মিত আজিজ ব্রিক্স নামের ইটভাটাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে স্বস্তি ফিরে স্থানীয় কৃষকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ওই ভাটায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম ফয়সাল, পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার সিনিয়র কেমিস্ট সুকুমার সাহা, পরির্দশক নূর হাসান সজিবসহ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অভিযান চলাকালে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত উপজেলার নাঙ্গলকোট-মৌকরা পাকা সড়কের আনুমানিক ২০০ গজের মধ্যে প্রায় ২৫ একর আবাদি কৃষি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে নির্মিত ইটভাটাটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. ছামছুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, "ইটভাটা স্থাপন আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ এলাকায় আবাদি কৃষি জমিতে ওই ইটভাটাটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। আমরা সরেজমিনে তদন্ত  করে বিষয়টির সত্যতা পেয়ে অভিযানের মাধ্যমে ইটভাটাটি ভেঙে দিয়েছি।

" তিনি বলেন, "এভাবে কৃষি জমিতে যদি আবারও ইটভাটা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়, তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। " এ ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর অবৈধ ভাটাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ায় পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধন্যবান জানিয়েছেন এলাকার কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ।  


মন্তব্য