kalerkantho


একই নামের সুযোগ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হলেন ওসি

বরগুনা প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৩৪



একই নামের সুযোগ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হলেন ওসি

নামে নামে মিল থাকায় বরগুনার তালতলীতে এক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন তালতলী থানার সাবেক ওসি মোঃ সামসুল হক পি পি এম এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। আজ সোমবার সকালে তালতলী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোঃ সামসুল হক হাওলাদারের ছেলেরা এ অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে মৃত সামসুল হক হাওলাদারের বড় ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল হক হাওলাদার লিখিত বক্তব্যে জানান, তার পিতা ছিলেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় ৯নং সেক্টরের অধীনে পটুয়াখালীর সাব সেক্টর হেডকোয়ার্টার বুকাবুনিয়া ক্যাম্পে অবস্থান করে সাহসিকতার সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।  

ঐ সেক্টরে সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা সিনিয়র ক্যাম্প অধিনায়ক জহির শাহ আলমগীর ও একই সেক্টরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এম এ রাব্বানী ফিরোজ এর দেওয়া প্রত্যয়নে এবং কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা মৃত সামসুল হকের সুচক নং- ০৪-০৯-৩৯-০০৯ রয়েছে।  

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সের ৯ নং সেক্টরের পটুয়াখালী সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেহেদী আলী ইমাম এর দেওয়া সার্টিফিকেটে জানা যায় ১৯৭১ সালে ৬ জুন থেকে ৬ আগষ্ট পর্যন্ত মো: সামসুলহক হাওলাদার তাদের সাথে থেকে সক্রিয় ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।  

শহিদুল হক হাওলাদার তার লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে অনলাইনে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চাওয়ায় তারা ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আবেদন করেন। যার ডিজি নং-১২১৯৩২৯ এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৩২৭০১০৯০১১৯১০০৪১। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সারা দেশের ন্যায় সম্প্রতি তালতলী উপজেলায়ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ওই বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তার পিতার নাম ডাকা হয়নি।

 

পরবর্তিতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার মোঃ আলী হাওলাদারের পুত্র মোঃ সামসুল হক পি পি এম ২০০৪ সালের এপ্রিলে তালতলী থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় তার বাবার নাম মোঃ সামসুল হকের সাথে পি পি এম যোগ করে নিজ নাম মোঃ সামসুল হক পি পি এম এবং তার দাদার নাম মোঃ ছাদের আলী হাওলাদারের ছাদের কেটে দিয়ে তার পিতা মোঃ আলী হাওলাদার নাম দিয়ে তালতলীর বড়বগী ঠিকানায় পরবর্র্তী প্রকাশিত গেজেটে ৫২৫ নং এ মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হন।  

এ বিষয়ে সাবেক ওসি সামসুল হক পি পি এম সাংবাদিকদের জানান, তালতলীতে চাকরিররত সময়ে তিনি তালতলী থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার আবেদন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে যে কেউ তার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্যে আবেদন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সকল কাগজপত্র পরীক্ষা করে যথাযথ নিয়মের ভিত্তিতেই তা চুড়ান্ত করে থাকেন।  

২০০৯ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে আবেদন করে নিয়ম মেনে তালতলী উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তার নাম গেজেটভুক্ত হয় বলেও জানান তিনি।  

বড়বগীর সামসুল হক হাওলাদারের নাম কেটে তার নাম অন্তর্ভূক্তির কথা অস্বীকার করে বলেন, এতদিন পরে তারা এ অভিযোগ তুললেন, এর আগে কেন অভিযোগ করলেন না। সামসুল হক পি পি এম আরও বলেন, তার নামের সাথে নাম মিলে যাওয়ায় এবং বাউফলের বাসীন্দা হয়েও তালতলী থেকে আবেদন করায় আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।   

তালতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই কমিটির সদস্য সচিব ও তালতলী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আমম্মেদ জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল থেকে অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাদের নাম এসেছে যাছাই বাছাই-এর সময় তাদেরই কেবল ডাকা হয়েছে। তবে তালতলী থানার সাবেক ওসি সামসুল হক পি পি এম যদি মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও দুর্নীতির মাধ্যমে অন্যের নাম ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন তবে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য