kalerkantho


মানবতাবিরোধী : গফরগাঁওয়ের ১১ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:০৩



মানবতাবিরোধী : গফরগাঁওয়ের ১১ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ১১ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন শাখায় দাখিল করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে প্রসিকিউশন শাখায় এ প্রতিবেদন জমা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম।

 

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও বাড়িঘর লুণ্ঠনের অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারজনকে হত্যা, ৯ জনকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ। আসামিরা বর্তমানে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থক বলে জানায় তদন্ত সংস্থাটি।

১১ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন হলেন, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রামের খলিলুর রহমান, একই গ্রামের সামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, একই গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ, রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী এবং ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের খুর্দ্দ পনাশাইল গ্রামের আবদুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন। আর পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে শিগগিরই প্রসিকিউশনের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।

এর আগে সকালে তদন্ত সংস্থার ধানমণ্ডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চার ধরনের অভিযোগ সম্বলিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন সংস্থাটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান। এ সময় সমন্বয়ক সানাউল হকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস বিফিংয়ে জানানো হয়, ট্রাইব্যুনাল থেকে পরোয়ানা জারির পর সম্প্রতি তাদেরকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় গফরগাঁও থানা বর্তমানে পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রাম ও টাঙ্গার ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে আসামিরা বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে।

ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার পর তিন আসামি গফরগাঁও থেকে পালিয়ে যান ও নিজেদের নাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করেন। তাদের মধ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও মসজিদের ইমাম রয়েছেন। আসামি খলিল ও আব্দুল মালেককে ভালুকা থেকে এবং একজনকে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আবদুল হান্নান খান জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে তদন্ত শুরু হয়ে চলতি বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। এ মামলায় ৩১ জন সাক্ষী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৬ খণ্ডে ৭৫ পৃষ্ঠা করে ৪৫০ পৃষ্ঠার এ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) তৈরি করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।  


মন্তব্য