kalerkantho


সোনারগাঁওয়ে জেএমবির তিন সদস্য গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:৪৯



সোনারগাঁওয়ে জেএমবির তিন সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে জেএমবির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আজ সোমবার ভোরে কাচপুর ও মোগপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানান র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান।

পরে র‌্যাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিষয়ে বিভিন্ন তথ‌্য তুলে ধরেন তিনি।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকার মো. মোস্তফা ওরফে শামীম (২৫), একই জেলার ফুলবাড়িয়া থানার আবু রায়হান ওরফে হিমেল (২৪) ও ঢাকার ধামরাই এলাকার শরিফুল ইসলাম ওরফে শাহীন (২১)। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি হাতবোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, পাঁচটি চাপাতি ও চাকু, জিহাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান কর্নেল কামরুল।

তিনি বলেন, ওই তিনজন জেএমবির ‘সক্রিয় সদস্য’ এবং সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ‘সরাসরি সম্পৃক্ত’ ছিলেন। তারা স্বীকার করেছে, জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের পথ অনুসরণ করে তারা। নিজেদের এলাকা ও আশপাশে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই জেএমবি সদস‌্যরা মোবাইল ফোনে কথা বলে যোগাযোগ করতেন না। সরাসরি অথবা অ্যাপের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। সম্মেলনে আরো জানানো হয়, আবু রায়হান আড়াইহাজারে সরকারি সফর আলী কলেজে সমাজ কর্ম বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন।

২০১৪ সালের শেষ দিকে তৌহিদের মাধ্যমে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন।

কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, তৌহিদের মাধ্যমে জেএমবির আরেক সদস্য সাকিবের সঙ্গে রায়হানের পরিচয় হয়। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া বাজারে সাকিব প্রায়ই তার সঙ্গে করতে যেতেন এবং সাংগঠনিক বিষয়ে তাদের আলোচনা হত। সাকিবকে মাসে ২০০ টাকা করে সাংগঠনিক চাঁদা দিতেন রায়হান। পরে সাকিবের মাধ্যমে জেএমবি সদস্য আকাশ, রোকন ও আমিনের সঙ্গে রায়হানের পরিচয় হয় এবং ২০১৫ সালের শেষ দিকে রায়হান চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন।

তিনি আরো বলেন, “রায়হান ২০১৬ সালের মার্চ থেকে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। ”

র‌্যাব বলছে, শামীম ২০১৩ সালের শেষ দিকে হাসমত নামে এক নওমুসলিমের মাধ্যমে ‘দীক্ষিত’ হন। তখন থেকে নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিলে তাকে দেখা যেত। পরে তিনি জঙ্গিবাদে জড়ান।  

কামরুল বলেন, ২০১৪ সালের শেষ দিকে সাকিবের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগ দেন শামীম। পরের বছর গাজীপুরের শালবাড়ী/শালনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তিনি ২৫ দিনের জিহাদি প্রশিক্ষণ নেন। ওই বছরই চট্টগ্রামে তাকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে তিনি হিজরতের উদ্দেশে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন।

তিনি জানান, শাহীন ধামরাইয়ের শরীফবাগ ইসলামিয়া কামেল মাদ্রাসা থেকে নবম শ্রেণি পাস করে ঘাটাইলে কাঠের দোকানে কাজ নেন। সেখানে মোস্তফা ও সাকিবের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগ দেন এবং সংগঠনের সিদ্ধান্তে মোস্তফার শ্যালিকাকে বিয়ে করেন। পরে বাটা কম্পানিতেও কিছুদিন কাজ করেন তিনি।

নাশকতার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল কি না জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, সাকিবকে গ্রেপ্তার করা গেলে তা জানা সম্ভব হবে।


মন্তব্য