kalerkantho


ভাষার জন্য সংগ্রাম করতে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন বদিউর

আজিজুর রহমান চৌধুরী, জামালপুর    

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১১:৩৮



ভাষার জন্য সংগ্রাম করতে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন বদিউর

ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক হওয়ায় ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে ঝরে  পড়েছিলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ভাষাসংগ্রামী বদিউর রহমান তালুকদার। 'মাতৃভাষা বাংলা চাই' আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক হওয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁকে দেওয়ানগঞ্জ সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিন কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। তবে ভাষা আন্দোলনের ১০ বছর পর ম্যাট্রিক পাস করলেও বয়স বেড়ে যাওয়ায় তিনি আর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি।

ভাষাসংগ্রামী মো. বদিউর রহমান তালুকদার ১৯৩৪ সালের ২৬ মার্চ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শহরের কালিকাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছমির উদ্দিন তালুকদার এবং মাতার নাম মৃত ছলিমন নেছা।

বদিউর রহমান বলেন, "১৯৫২ সালে আমি দেওয়ানগঞ্জ সমবায় উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছি। এরপর ভাষা আন্দোলনের দেওয়ানগঞ্জ থানা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালে দেওয়ানগঞ্জ সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের তৎকালীন জিএস মো. ফরহাদ খলিলের নেতৃত্বে দেওযানগঞ্জ বাজার এলাকায় মাঝে মধ্যে মিছিল ও সমাবেশ করেছি। ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক হওয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দেওয়ানগঞ্জ থানার তৎকালীন সার্কেল অফিসার এবং দেওয়ানগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ১৯৫২ সালের ১৫ মার্চ সমবায় উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ আমাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আমার ছাত্রত্ব কেড়ে নিয়েছিলেন। একই দিন রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দেওয়ানগঞ্জ সমবায় উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ আমার সহকর্মী ভাষা সংগ্রামী সাখাওয়াত হোসেন, জাকিউল হক, সৈয়দুজ্জমান এবং আব্দুল গণিকেও বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে।

"

বদিউর রহমান বলেন আরো বলেন, "আমদের পাঁচজনকে ভাষা সংগ্রামী ও রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার পর আমাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য হুলিয়া জারি করে পুলিশ। তখন থেকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি বহুদিন। এরপরও এলাকার ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মাঝে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেছি। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে দেওয়ানগঞ্জ থেকে সাইকেলে চড়ে বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয় এবং হাট-বাজারে গিয়ে ছাত্র ও সাধারণ জনতাকে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় হতে উৎসাহ যুগিয়েছি। আমার ভাষা আন্দোলনের এসব ইতিহাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা ও জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত বইতে লিপিবদ্ধ রযেছে। এ ছাড়া আমি একজন ভাষাসৈনিক হিসেবে জামালপুর জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট পেয়েছি। "

তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে পাক প্রেতাত্মাদের কালো থাবা থেকে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মায়ের ভাষাকে আগলে রাখার আহ্বান জানান।    

 


মন্তব্য