kalerkantho


কীর্তনখোলায় তেলবাহী ট্যাংকারের ইঞ্জিনরুমে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৮:৪১



কীর্তনখোলায় তেলবাহী ট্যাংকারের ইঞ্জিনরুমে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে 'এমটি অ্যাংকর এইজ' নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ইঞ্জিনরুমে বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ এবং একজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে নগরের চাঁদমারী খেয়াঘাটসংলগ্ন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধরা হলেন জাহাজের স্টাফ মো. শহিদুল ইসলাম (৫০), মো. হুমায়ুন কবির (৫০), গ্রিজার নাজমুল (৪৫) ও মো. আবু সুফিয়ান (২৪)। তবে আহত বাবুর্চি সানাউল্লাহ (৪৫) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ট্যাংকারের লস্কর সোহেল ও কাইয়ুম হোসেন জানান, তারা যমুনা অয়েল কম্পানির তেল নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন। জাহাজের ১৪ জন স্টাফের মধ্যে তিনজন ছুটিতে রয়েছে। বাকি সবাই মিলে রাতে জাহাজটিকে আনলোড করার জন্য চাঁদমারী খেয়াঘাটসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী থেকে যমুনার জেটিতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এ সময় ইঞ্জিনরুমে বিকট শব্দ হয়ে আগুন ধরে যায়। সেখানে থাকা দগ্ধ ও আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে তারা হাসপাতালে পাঠান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

আহত বাবুর্চি সানাউল্লাহ জানান, জাহাজটি ৯ লাখ লিটারের বেশি পেট্রল ও ডিজেল রয়েছে। আনলোড করার প্রস্তুতির সময় ইঞ্জিনের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনায় জাহাজের ইঞ্জিনরুম ও ডেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক ফারুক হোসেন জানান, ঘটনার পর চারজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।

তিনি জানান, বিস্ফোরণে জাহাজের ইঞ্জিনরুম ও ডেকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ও একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও বেসরকারি একটি কার্গোর সাহায্যে তেলবাহী ট্যাংকারটিকে টেনে তীরে যমুনার জেটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রেজিস্ট্রার ডা. মো. শাহিন জানান, ভর্তি হওয়া চারজনের মধ্যে মো. আবু সুফিয়ান আশঙ্কামুক্ত। তবে বাকি তিনজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য