kalerkantho


ডিমলায় বিজিবির মামলায় ঘরছাড়া তিন স্কুল শিক্ষার্থী

নীলফামারী প্রতিনিধি    

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:১৬



ডিমলায় বিজিবির মামলায় ঘরছাড়া তিন স্কুল শিক্ষার্থী

সীমান্তে চোরাচালান বা মানবপাচার নয়, তিস্তা নদীতে নৌকায় বেড়াতে গিয়ে দেশের জলসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিন স্কুল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিজিবি। তারা এখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্কুল ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

বিজিবির ৭ এর পক্ষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আলী আজম।

মামলায় আসামি করা হয় উপজেলার কালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আবুল কালামের ছেলে আল আমিন, একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রশিদের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, কালীগঞ্জ গেনদির চৌপথী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মোস্তফা মণ্ডলের ছেলে আমির হোসেন (৯) এবং নৌকার মালিক খোকা মিয়া (৫০)। তাদের সবার বাড়ি পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেশ্বর গ্রামে।

বিজিবির অভিযোগ, নৌকার মালিকের কাছ থেকে নৌকা নিয়ে ওই তিন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ সীমান্তের ডিমলা উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামে অবস্থিত সীমান্ত পিলার ৭৯৪/৬ অতিক্রম করে ভারতের অংশে ১০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করে। দেখতে পেয়ে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা ধাওয়া করলে তারা নৌকা ফেলে পালিয়ে আসে। ফেলে আসা নৌকাটি জব্দ করে বিএসএফ। দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশে অবৈধ প্রবেশের অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এলাকাবসী জানায়, ওই তিন শিক্ষার্থী ঘাটে বাঁধা থাকা একই গ্রামের খোকা মিয়ার (৫০) নৌকা নিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে তিস্তা নদীতে বেড়াতে যায়। তারা মনের অজান্তে নদীর জলসীমা অতিক্রম করে ভারতের অংশে প্রবেশ করে।

এ সময় বিএসএফ সদস্যদের দেখে সীমা অতিক্রমের বিষয়টি বুঝতে পেরে ভয়ে নৌকা ফেলে পালিয়ে আসে তারা। এ ঘটনার পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে ওই তিন শিক্ষার্থীসহ নৌকার মালিক খোকা মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে বিজিবি। এরপর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্কুল ছেড়ে পালিয়ে বেড়াছে স্কুল শিক্ষার্থীরা।

ঝাড়শিংহেশ্বর গ্রামের মফেল উদ্দিন (৫৫), আবু বক্কর (৪৫), সোলায়মান আলীসহ (৪০) আরো অনেকে বলেন, "আমরা বংশ পরম্পরায় তিস্তা নদীর অববাহিকার ওই গ্রামে বসবাস করে আসছি। নৌকায় চলাচলে জলসীমা আমরা অনেকেই সহজে বুঝতে পারি না। সে ক্ষেত্রে শিশুদের আরো বোঝার কথা নয়। তারা জলসীমা না জেনেই জলসীমা অতিক্রম করেছে। বিএসএফ দেখে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা ফিরে এসেছে। তাদের মধ্যে অসৎ কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। এটি নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা আমাদেরকে হতবাক করেছে। "

নৌকার মালিক খোকা মিয়া বলেন, "ঘাটে বাধা থাকা নৌকা নিয়ে গ্রামের ওই তিন শিশু কখন নদীতে বেড়াতে গেছে সেটা আমার জানা ছিল না। তারা ফিরে আসার পর আমার নৌকার খবর জানতে পারি। এখন ওই তিন শিশুর সঙ্গে আমাকেও মামলার আসামি  হতে হয়েছে। "

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, "নদীর জলসীমা সহজে বুঝার উপায় থাকে না। ওই তিন শিশু নৌকায় তিস্তা  নদীতে বেড়াতে গিয়ে বুঝতে না পেরে জলসীমা অতিক্রম করেছে। ভারতীয় বিএসএফ দেখে সীমা অতিক্রমের বিষয়টি তারা বুঝতে পেরেছে। পরে ভয়ে নৌকা ফেলে পালিয়ে আসে তারা। সেটির সূত্র ধরে ওই তিন শিশুর বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা দায়ের করা উচিৎ হয়নি বলে আমি মনে করি। এখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে তারা স্কুল ও বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

বিজিবির কালিগঞ্জ সীমান্ত ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ও মামলার বাদী  আলী আজম বলেন, "উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা দায়ের করেছি। " ডিমলা থানার ওসি  মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, "নিজ দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে ভিন দেশে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীসহ একজন নৌকা মালিকের বিরুদ্ধে গত বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেছে বিজিবি। মামলাটির তদন্ত চলছে। "

 


মন্তব্য