kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

'এসআই আকরামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে'

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি    

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:২৪



'এসআই আকরামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে'

"সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, ঝিনাইদহের এসআই আকরাম হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এসআই আকরাম হত্যাকাণ্ডের সাঙ্গে চট্টগ্রামের আলোচিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বাবুল আক্তার জড়িত। সাবেক  এসপি বাবুল আক্তারের সঙ্গে নিহত এসআই আকরাম এর স্ত্রী বনানী বশির বন্নির পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এসআই আকরামকে হত্যা করা হয়েছে। "

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত এসআই আকরামের বোন এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত এসআই আকরাম হত্যা মামলার বাদী তাঁর বোন জান্নাতারা পারভীন রিনি বলেন, "আমাদের পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন নিহত এসআই আকরাম। ২০০৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মগরখালী গ্রামের বসির উদ্দিন বাদশার মেয়ে বনানী বসির বন্নির সঙ্গে এসআই আকরামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি মেয়ে সন্তান হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের আগে থেকেই বন্নির সঙ্গে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর তা পরকিয়ায় রূপ নেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আকরাম ও বন্নির মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়।

"

গত ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে যমুনা সেতু হয়ে ঝিনাইদহে বাড়িতে আসছিলেন এসআই আকরাম। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপার বড়দাহ নামক স্থানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা আকরামের ওপর হামলা করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে সড়কের ‌ওপর ফেলে রেখে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আরো অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। এরপর ফরিদপুর মেডিক্যাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ১৭ দিন পর ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি মারা যান। এ ব্যাপারে তাঁর স্ত্রী বন্নি বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় সড়ক দুর্ঘটনাজনিত একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

আকরামের বোনদের অভিযোগ করে বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে এসআই আকরামের মৃত্যু হয়নি, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার ও বনানী বশির বন্নি পারিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বন্নি শৈলকুপা থানায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে মামলা দায়ের করেন। "  লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, "আমরা এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে  থানার তৎকালীন ওসি হাশেম খান মামলা গ্রহণ করেননি। পরে বাধ্য হয়ে এসআই আকরামের বোন জান্নাতারা পারভীন রিনি বাদী হয়ে ঝিনাইদহের আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। "

এ সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসআই আকরাম হত্যার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক সঠিক বিচার দাবি জানান নিহত এসআই আকতারের পাচঁ বোন। সংবাদ সম্মেলনে পাচঁ বোন হলেন, রেহানা খাতুন, ফেরদৌস আরা, জান্নাত আরা পরভিন রিনি, শাহনাজা পারভিন রিপা ও শামিমা নাসরিন মুক্তি। তাঁরা জানান, ছেলে আহত হওয়ার খবর শুনে এসআই আকতারের মা ও বাবা স্ট্রোক করেন। ছেলের মৃত্যুর আট দিন আগে মা মারা যান। বাবা প্যারালাইসড অবস্থায় পড়ে আছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

 


মন্তব্য