kalerkantho


ধামরাইয়ে ধর্ষনের অভিযোগে ইউপি সদস্য আটক

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:৩০



ধামরাইয়ে ধর্ষনের অভিযোগে ইউপি সদস্য আটক

ঢাকার ধামরাইয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে নাজমুল হোসেন মুক্তার নামের এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তি যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গুরুগ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়,উপজেলার ভাতকোড়া গ্রামের এক তরুণী বুধবার রাত ১০টার দিকে ঘরে বিছানা করতেছিল। এসময় যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাজমুল হাসান মুক্তা ওই তরুণীর ঘরে ঢোকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা ওই সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুকে জানায় তরুণী। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুর সহযোগিতায় সাভার সার্কেলের এএসপি নাজমুল হাসান ফিরোজের কাছে গিয়ে নালিশ করে ওই তরুণী। পরে নাজমুল হাসান ফিরোজ ঘটনার বিস্তারিত শুনে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় ইউপি সদস্য নাজমুলকে। এসময় নাজমুল ধর্ষণের কথা অস্বীকার করে। পরে ওই তরণীর অভিযোগে তাকে আটক করে এএসপি নাজমুল হাসান। পরে তাকে ধামরাই থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ধর্ষিতার সাথে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে থানায় কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

এসময় ধর্ষনের শিকার তরুণী জানায়, সে ধানতার বাজারে মনির হোসেনের মালিকানাধীণ থেরাপী সেন্টারে চাকরি করে। তাকে ভাল বেতনে অন্য ক্লিনিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নাজমুল হোসেন মুক্তার কিছুদিন আগে মির্জাপুর নিয়ে ধর্ষণ করে। বুধবার রাত ১০টার দিকে ঘরে বিছানা করার সময় নাজমুল হোসেন মুক্তার ঘরে ঢোকে তাকে ধর্ষণ করে চলে যায়। এরপর সে স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুকে ধর্ষনের ঘটনা জানায়। চেয়ারম্যান আমাকে নিয়ে সাভারে এএসপির কাছে নিয়ে যান।

থানা হাজতে নাজমুল হোসেন মুক্তার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। নাজমুল জানায়,ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাসিয়ে দিয়েছে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু ও আমার প্রতিদ্বন্দ্বি মনির হোসেন। আমার কাছে চেয়ারম্যান এক লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি তা দেয়নি। তবে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান  টাকা চাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন,প্রকৃত পক্ষে নাজমুল খারাপ লোক। এলাকাবাসী জানায়,থেরাপী সেন্টারের মালিক মনির হোসেন ও ইউপি সদস্য নাজমুল হোসেন মুক্তারের বাড়ী একই গ্রামে। তারা দুই জনে একই ওয়ার্ডে সদস্য পদে নির্বাচন করে আসছে। নাজমুলের কাছে মনির পরপর দুইবার পরাজিত হয়েছে।

একটি সুত্র জানায়,স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুর সাথে ইউপি সদস্য নাজমুল হোসেন মুক্তার দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছে। ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ রিজাউল হক জানায়,ধর্র্ষিতার মা আমাকে জানিয়েছে তার মেয়েকে ধর্ষন করেনি। তবে ধর্ষিতার অভিযোগটাই প্রাধ্যান্য দেওয়া হয়েছে এবং মামলা হয়েছে। আজ শুক্রবার নাজমুলকে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।


মন্তব্য