kalerkantho


বিচারপ্রার্থীকে মারধর করায় আইনজীবী বহিষ্কার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৫৯



বিচারপ্রার্থীকে মারধর করায় আইনজীবী বহিষ্কার

মামলায় আইনজীবী পরিবর্তনের কারণে বিচারপ্রার্থীকে (মোয়াক্কেল) মারধরের ঘটনায় এক আইজীবীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি। আজ বৃহষ্পতিবার বিকেলে সর্বসম্মতিক্রমে সাধারণসভায় এই সিদ্ধান্ত নেন আইনজীবীবৃন্দ। বহিষ্কৃত ওই আইনজীবীর নাম তৌহিদ আহমদ চৌধুরী দবির। তিনি শহরের আরপিন নগরের বাসিন্দা।  

জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন একটি মামলায় আইনজীবী পরিবর্তন করেণ দোয়ারাবাজার উপজেলার মজিবুর রহমান (৪০) নামের এক বিচার প্রার্থী। তিনি আইনজীবী তৌহিদ চৌধুরী দবির ও আইনজীবী জুনেদ আহমদের বদলে আইনজীবী আবুল আজাদ রুমানকে আইনজীবী নিয়োগ করেণ।  

এতে ক্ষুব্দ হয়ে তৌহিদ চৌধুরী দবির ও জুনেদ আহমদ আইনজীবী পরিবর্তনকারি মুজিবুর রহমানকে মারধর করেণ। এ ঘটনায় বিচারপ্রার্থী জেলা আইনজীবী সমিতির বরাবরে বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেণ। আইনজীবী সমিতি ঘটনা তদন্তে অ্যাড. শফিকুল আলমকে আহয়ক এবং অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন আহমেদ সোহেল এবং অ্যাড. মোহাম্মদ মানিককে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে।  

কমিটি তদন্ত করে মারধরের সত্যতা পায়। এ নিয়ে বৃহষ্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় দোষি আইনজীবী তৌহিদ চৌধুরী দবির ও জুনেদ আহমদকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানালে জুনেদ আহমদ কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইলেও তৌহিদ চৌধুরী দবির ক্ষমা না চেয়ে নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে থাকেন।  

এতে ক্ষুব্দ হয়ে আইনজীবীবৃন্দ তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়।  

সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল হক বলেন, 'মজিবুর রহমান নামে একজন বিচারপ্রার্থীকে মারধরের ঘটনার তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় দুইজন আইনজীবীকেই ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এ সময় একজন নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইলে অন্যজন নিজের দোষ অস্বীকার করেণ। ফলে আইনজীবী সমিতি সর্বসম্মতিক্রমে আইনজীবী তৌহিদ চৌধুরী দবিরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। ' 


মন্তব্য