kalerkantho


বেপড়োয়া পুলিশ সড়কের ওপর সেজদা দিতে বাধ্য করালেন চালককে

চকরিয়া (কক্সবাজার), প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:৩৪



বেপড়োয়া পুলিশ সড়কের ওপর সেজদা দিতে বাধ্য করালেন চালককে

যাচ্ছিল গা ঘেঁষে। কিন্তু গায়ের ওপর তুলে দেওয়ার অজুহাতে তৌহিদুল ইসলাম নামে কক্সবাজার পেকুয়া থানার এক এসআই নির্মমভাবে পিটিয়েছেন পিকআপ ভ্যান চালক মৌলানা মীর কাশেমকে। এতেও ক্ষান্ত হননি ওই এসআই। শেষপর্যন্ত গুলি করার ভয় দেখিয়ে ওই চালককে কান ধরে উঠবস করানোর পর কাবামুখি করে সড়কের ওপর সেজদা দিতেও বাধ্য করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া সদরের চৌমুহনী মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।  

মুহূর্তের মধ্যে এই চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিতর্কিত ওই এসআই তৌহিদুল ইসলামকে পেকুয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  

ঘটনার শিকার পিকআপ ভ্যান চালক মৌলানা মো. মীর কাশেম (৩৫) কক্সবাজার পৌরশহরের নাজিরারটেক এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পিকআপ ভ্যানটি এসআই তৌহিদের একেবারে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তাকে ধাক্কা দেয়নি। এর পরও ওই এসআই চালকের আসনে বসা ব্যক্তিটিকে টেনে-হিচড়ে নামিয়ে প্রথমে সজোরে চড়-থাপ্পড়, এর পর কান ধরে উঠবস করায়।

এতেও ক্ষান্ত হননি তিনি, শেষে ওই চালককে পশ্চিমমুখি করিয়ে কয়েকদফা সেজদা দিতেও বাধ্য করেছেন। আর এই দৃশ্য শত শত লোক প্রত্যক্ষ করেছেন।

পেকুয়ার কয়েকজন সংবাদকর্মী বলেন, 'ওই চালক অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তা না করে প্রকাশ্যে যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন তা মেনে নেওয়া যায়না। '

পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম দাবি করেন, 'চৌমুহনীতে যানজট নিরসনের জন্য দায়িত্ব পালনের সময় ওই পিকআপ তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এর পর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। '

পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, 'আমি সকালে জিডি মূলে চকরিয়া সার্কেল অফিসে দাপ্তরিক কাজে এসেছি। বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। এরপরও খোঁজ নিচ্ছি আসল ঘটনা কি। '


মন্তব্য