kalerkantho


আশুলিয়ায় বাবুল হত্যার মূল হোতা রাসেল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)    

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৫:৪৭



আশুলিয়ায় বাবুল হত্যার মূল হোতা রাসেল গ্রেপ্তার

ঢাকার আশুলিয়ার নরসিংহপুরের বাংলাবাজার এলাকার মাহবুবুর রহমান মহির বাড়িতে গত বুধবার গভীর রাতে কেয়ারটেকার বাবুলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং মহির স্ত্রী ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রাসেলই এ ঘটনার প্রধান আসামি। এর আগে বুধবার সকালে রাসেলের বাবা মতিউর রহমান ও মা মনি বেগম ওরফে মিনুকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে মোবাইল ট্র্যাকিং এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাহবুবুর রহমানের স্বজন ‌ও এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত রাসেল প্রায় ২০ বছর ধরে  বাবা মতিউর রহমহন ও মা মিনুর সঙ্গে নরসিংহপুর বাংলাবাজার এলাকার মাহবুবুর রহমান মহির বাড়িতে থেকেই বড় হয়েছে। বছর দুয়েক আগে এ বাড়ি থেকে রাসেলকে বের করে দিলে তারা পার্শ্ববর্তী অপর একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। রাসেলের বাবা মতি বাংলাবাজার হা-মীম পোশাক কারখানার গেইটের কাছে চায়ের দোকান ও পিঠা বানিয়ে বিক্রি করেন। ছেলের বেপরোয়া আচরণ ও নেশাগ্রস্ত হওয়াসহ চুরি, ছিনতাই এবং বহু বিবাহের অভিযোগে বাবা-মা তাকে বাসা থেকে তিন মাস আগে বের করে দেন। রাসেলের বাবা মানিকগঞ্জ জেলার জিয়ানপুর এলাকার বাসিন্দা।

আশুলিয়া থানার ওসি মহসিনুল কাদির চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বাবুল হত্যার মূল হোতা রাসেলকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, "বুধবার রাত সাড়ে ৩টায় মহির বাড়ির কেয়ারটেকার বাবলুকে হত্যা এবং মহির স্ত্রী ও মেয়েকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় রাসেলের বাবা-মাকে সকালে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যমতে ও মোবাইল ট্র্যাকিং করে পুলিশের পাঁচটি টিমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। পরে বুধবার সন্ধ্যায় ডেন্ডাবর পল্লীবিদ্যুৎ  এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় রাসেলকে আটক করে পুলিশ। "

ওসি আরো বলেন, "বছরখানেক আগে রাসেল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে তাকে বিতাড়িত করে মাহবুবুর রহমান স্ত্রীর ফুপাতো ভাই বাবুলকে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব দেন। সেই ক্ষোভে রাসেল বাবুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে। "

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাসেল নামের এক যুবক স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমানের বাড়ির টিনের চাল খুলে ঘরে ঢুকে দরজা খোলার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়ির কেয়ারটেকার বাবুল রাসেলকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় ধারালো ছুরি দিয়ে বাবুলের পেটে আঘাত করে রাসেল। বাবুলের চিৎকারে তার বোন আসমা বেগম (মাহবুবুরের স্ত্রী) ও ভাগনি মেহেরুন নেছা (১৩) বের হয়ে রাসেলকে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় রাসেল আসমার গলায় ও মেহেরুন নেছার বাম হাতে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুলকে মৃত ঘোষণা করেন।


মন্তব্য