kalerkantho


ভোলায় বিএনপি নেতা মেজর হাফিজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ভোলা প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:২৮



ভোলায় বিএনপি নেতা মেজর হাফিজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ভোলা ৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সাবেক এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদকে সংস্কারপন্থী আখ্যায়িত করে তাকে ওই এলাকায় ফের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে দলীয় একটি গ্রুপ। আজ মঙ্গলবার সকালে ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন হাফিজ বিরোধী নামের ওই গ্রুপটি। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় অফিস দখলকারী আত্মীয়-স্বজনদের সমন্বয়ে গঠিত পকেট কমিটি বাতিলেরও দাবি জানানো হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিএনপি নেতা মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ এলাকায় কমিটি না করে ঢাকা ও ভোলায় বসে কমিটি করে লালমোহন ও তজুমদ্দিন বিএনপিকে তিন-চার ভাগে বিভক্ত করায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি তার আত্মীয়-স্বজনদের সমন্বয়ে গঠিত পকেট কমিটির মাধ্যমে জেলা সম্মেলন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।  

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক-এগারোর সময়ে আমি দলের মূল ধারার পক্ষে অবস্থান করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছি। যার কারণে সংস্কারের মহাসচিব মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আমাকে ও আমার সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অহেতুক হামলা-মামলা করে নির্যাতন চালায়। এমনকি আমাদেরকে দল থেকে বহিস্কারেরও ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে। তিনি পদ-পদবির লোভ দেখিয়ে দলের ভেতরে তিন-চারটি সমন্বয়ে পকেট কমিটি গঠন করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজস্ব আত্মীয়-স্বজন ও ওই সময়ের কেন্দ্রীয় অফিস দখলকারীদের সমন্বয়ে লালমোহন-তজুমদ্দিন উপজেলায় পকেট কমিটি গঠন করেন। ওই পকেট কমিটি দ্বারা ভোলা জেলা ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সফল করার চেষ্টা করছেন।

আর সে কারণেই মেজর হাফিজ দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না। তিনি এলাকায় গেলে বিএনপির তৃনমূল নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। মেজর হাফিজ আজ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আমরা তার সংস্কারবাদী পকেট কমিটির বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি এবং মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।  

লালমোহন-তজুমদ্দিনে বিএনপির পকেট কমিটি বাতিল না করে ভোলা জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন করার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়।                 

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির প্রস্তাবিত সহ-সভপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদল সভাপতি নাছির উদ্দিন ভূট্টো, উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হুমায়ুন পাটওয়াররী, যুগ্ম সম্পাদক হাজী আকতার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহসিন মহাজন, সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি মিজানুল কবির, উপজেলা ওলামা দলের নেতা মাওলানা ফরিদ, লালমোহন উপজেলা বিএনপির প্রস্তাবিত সহ-সাংধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলম খায়ের, চরভূতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আলাউদ্দিনসহ লালমোহন-তজুমদ্দিনের শতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী।
   
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সাবেক এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদের মোবাইলে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, লালমোহন-তজুমদ্দিন বিএনপির একটি গ্রুপ দীর্ঘ দিন ধরেই সাবেক এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা প্রকৃত বিএনপির কেউ নয়।

 


মন্তব্য