kalerkantho


জামালপুরে অবৈধ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ

জামালপুর প্রতিনিধি    

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৫:১৫



জামালপুরে অবৈধ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ

জামালপুর পৌরসভার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইটভাটাগুলোতে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কয়লার পরিবর্তে কাঠ। এতে সরকারি  নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এসব ইটভাটা স্থাপনে দেখা দিয়েছে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জামালপুর পৌর সভার বিলপাড়া, লাঙ্গলজোড়া, আলিহারপুর, বোর্ডঘর এবং ভেলা পিঙ্গলহাটি এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ১০টি ইটভাটা। এসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে কয়লার পরিবর্তে কাঠ। আবার ইটভাটার জন্য প্রতিনিয়ত তুলে নেওয়া হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি। এসব মাটি, কাঠ ও ইট আনা নেওয়ার কাজে স্থানীয় সকল রাস্তাঘাট ব্যবহার করে বেপরোয়াভাবে চলছে ভটভটি, নছিমন, করিমন নামের বিকট শব্দের অবৈধ যানবাহন। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে পৌর শহরের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি। অপরদিকে, বন-জঙ্গলসহ গ্রাম-গঞ্জের গাছগাছালি উজাড় হয়ে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য।

জামালপুর পৌরসভার ঘনবসতিপূর্ণ বোর্ডঘর এলাকায় গত রবিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বোর্ডঘর এলাকার জীবন ব্রিকস্, রাজু ব্রিকস্, রাহাত ব্রিকস্ এবং জনতা ব্রিকস'র প্রত্যেকটি ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে স্তূপাকারে রাখা হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ মণ করে কাঠ। এসব কাঠ দিয়েই পোড়ানো হচ্ছে ইট। একই পৌরসভার লাঙ্গলজোড়া গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে যমুনা ব্রিকস্, মুন্না ব্রিকস রূপালী ব্রিকস্ এবং আলিহারপুর এলাকার আজিম ব্রিকস।

এসব ইটভাটার চারিদিকে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাই স্কুল ও হাট-বাজার। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ার বিরূপ প্রভাবে মরে যাচ্ছে গ্রামগুলির গাছ-গাছালি। ইতিমধ্যে ওই সব গ্রামের অধিকাংশ ফলদ গাছের ফল ধরাও বন্ধ হয়ে গেছে।

এ ছাড়া রাস্তাঘাটে চলাচলকারী বেপরোয়া যানবাহনের বিকট শব্দে অনেকেরই কানের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য। ইটভাটা মালিকদের খামখেয়ালিপনায় প্রতিটি ইটের নেই সঠিক মাপ, একেক ইটভাটার ইট একেক মাপের। এতে ভবন নির্মাণ শ্রমিকসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে ইটভাটা মালিকদের কাছে প্রতারিত হচ্ছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

জামালপুর পৌরসভার লাঙ্গলজোড়া গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন, সোহেল রানা, আসাদ আলী এবং আব্দুল জব্বারসহ একাধিক প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কয়েক বছর আগেও তাদের এলাকার জমিতে তিনটি করে ফসল হতো। তখন তারা সুখে শান্তিতে পরিবার নিয়ে চলেছেন। এখন ইটভাটা হওয়ায় তাদের জমিতে আগের মতো ফসল হয় না। গাছপালায় আগের মতো ফল ধরে না। ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার প্রভাবে মাটির উর্বরতা হ্রাস পেয়েছে, ফসলের উৎপাদন ও গাছের ফল কমেছে এবং বৃক্ষের মড়ক শুরু হয়েছে।

জামালপুর ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন খান জানান, ভাটাগুলোতে আগে কাঠ পোড়ানো হতো। বর্তমানে কয়লার চেয়ে কাঠের দাম বেশি। তাই এখন কাঠ পোড়ানো হয় না। জামালপুর পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, "ইটভাটাগুলোর জন্য গ্রামগঞ্জের গাছ-গাছালিতে আগের মতো আর ফল ধরে না। রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবৈধ যানবাহনের বিকট শব্দে অনেকেরই কানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই যে সমস্ত ইটভাটা সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলছে না সেসব ইটভাটা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। " 

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মঞ্জুরুল কাদের বলেন, "ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর ফলে বন-জঙ্গলসহ গ্রামগঞ্জের গাছগাছালি উজাড় হয়ে যাচ্ছে। গাছপালা হারিয়ে ফেলছে ফল ধারণের ক্ষমতা। এ ছাড়া ইটভাটার কালো ধোঁয়ার বিরূপ প্রভাবে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য। "

 


মন্তব্য