kalerkantho


ধর্ষিতাকেই আওয়ামী লীগ নেতার মারধর

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৪১



ধর্ষিতাকেই আওয়ামী লীগ নেতার মারধর

শ্যালিকাকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ধষর্ণের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরে এক শালিশী বৈঠকে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করার ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। শ্যালিকা ও দুলাভাইকে প্রকাশ্যে মারধর করার সময় স্থানীয় এক ব্যাক্তি তার মোবাইল ফোন সেটে প্রায় দুই মিনিটের এ ভিডিও চিত্র ধারণ করেন।

নির্যাতনের প্রায় দেড় মাস পর  ভিডিওটি প্রকাশ হলে গত ২ দিন ধরে ফেসবুকে তা স্থানীয়ভাবে ভাইরাল হয়ে উঠছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩১ ডিসেম্বর জেলার কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউছুফ আলী ওরফে মিয়া ভাই এবং তার এক অনুসারী যুবককে শালিশী বৈঠকে দুইজনকে মারধর করতে দেখা গেছে। এসময় মারধর থেকে রক্ষা পেতে শ্যালিকা ও দুলাভাই আকুতি জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি। পরে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই মো.আবদুল আলী ওরফে কালুকে (৩২) থানায় পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।
ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বাড়ির উঠানে শালিসী বৈঠক চলছে।   সেখানে কয়েকটি কাঠের চেয়ারে ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েক ব্যাক্তি বসে আছেন। এ পর্যায়ে উঠে গিয়ে চেয়ারম্যান লাঠি নিয়ে যুবককে বেদম পেটায়। পরে তিনি মাটিতে লুটে পড়ে।

এসময় তাকে এলোপাতাড়ি কয়েকটি লাথি দিতে দেখা যায়। পাশে দাড়িয়ে থাকা ১৩-১৪ বছরের কিশোরীকেও একইভাবে লাঠি দিয়ে মারধর ও বেশ কয়েকটি লাঠি দিতে দেখা গেছে। চেয়ারম্যান মারধর করার আগেও বৈঠকে উপস্থিত আরও এক ব্যক্তি ওই যুবককে  লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, শ্বশুর বাড়িতে থাকা (ঘর জামাই)  মো.আবদুল আলী ওরফে কালু তার স্ত্রীর ছোট বোনকে (শ্যালিকা) নিয়ে চট্রগ্রাম পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর শালিশ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে চেয়ারম্যান ও তার এক অনুসারী শ্যালিকা ও দুলাভাইকে পিটিয়ে আহত করে। পরে কালুকে পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।
চরমার্টিন ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী বলেন, অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে ফেলে মাদকসেবী ওই ঘরজামাই শ্যালিকাকে পালিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে আমাদের সাথে খারাপ আচরন করে। যে কারণে এক-দুইটা চড়-থাপড় দিয়েছি।  
হাজিরহাট তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ হুমায়ুন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মো. রেজাউল জানায়, ভগ্নিপতি কৌশলে শ্যালিকাকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কমলনগর থানায় মামলা করেছে কিশোরীর বাবা। পরে ওই মামলা তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যান তাদের নির্যাতন করেছে বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।
কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বলেন, ঘটনাটি কয়েকজন আমাকে জানিয়েছে। শালিশী বৈঠকে কারোর গায়ে হাত তোলার নিয়ম নেই।
জানতে চাইলে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ফেসবুকে ভিডিওটি তার নজরে আসেনি। এ বিষয়ে অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য