kalerkantho


ভোলা খাল দখলমুক্ত করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন

ভোলা প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:০৮



ভোলা খাল দখলমুক্ত করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়েছে ভোলা প্রশাসনের। সংবাদ প্রকাশের পর ভোলা খাল দখলমুক্ত করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তারা সরেজমিন তদন্ত শেষে দখলদারদের চিহিৃত করে তাদের তালিকা তৈরি করেছে। এরপর শুরু করা হবে উচ্ছেদ অভিযান।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ রুহুল আমিন জানান, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ভোলা খাল দখলমুক্ত করতে ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। তারা সরেজমিনে তদন্ত শেষে দখলদারদের চিহিৃত করে গত শনিবার তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ থেকে টাউন স্কুল পর্যন্ত ভোলা খালের দুই পাশে এ পর্যন্ত ১১৯ জনের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। তালিকা তৈরির পর দখলদারদের কাছে নোটিশ পাঠানো হবে। এর পর খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে দখলদারদের বিরুদ্ধে শুরু করা হবে উচ্ছেদ অভিযান।  

এ ব্যাপারে ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন বলেন, ভোলা খালটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভোলা খালটি দূষণমুক্ত রাখা, নাব্যতা বজায় রাখা ও অবৈধ দখলমুক্ত করার লক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভোলা পৌরসভাকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায় চলতি মাসের মধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। ভোলা খালটি দূষণমুক্ত রাখা, নাব্যতা বজায় রাখা ও অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান ডিসি।  

জেলা প্রশাসক বলেন, গত প্রায় দুই বছর আগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশনা দেন। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।              

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার কালের কণ্ঠে “যৌবন ফিরছে ভোলা খালের” শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। আর ওই সংবাদ প্রকাশের পরেই মাঠে নেমেছে প্রশাসনের কর্তারা।  

উল্লেখ্য, এক সময়ে বেতুয়া নদী হিসেবে পরিচিত ভোলা খালের ভেতর দিয়ে বড় বড় পাল তোলা নৌকা ও জাহাজ চলত। ভোলার ব্যবসায়ীরা ওই সব নৌকা ও জাহাজে করে তাদের ব্যবসায়ী মালামাল আনা নেওয়া করত। জেলেরাও মনের আনন্দে মাছ ধরত সেই নদীতে। কিন্তু আজ আর সেই পাল তোলা নৌকা নেই। ব্যবসায়ীরাও এখন আর নৌকায় করে মালামাল আনা নেওয়া করতে পারছেনা। নেই জেলেদের মাছ ধরার মহোৎসবও। বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র এ খালটি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। প্রায় প্রতিদিনই খালের কোন না কোন অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে। এদিকে ভোলা সদর রোডের বিকল্প সড়ক হিসেবে এ খালের পাড় বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করেছে স্থানীয় পৌরসভা। খালের ওপর দিয়েও কাশিস্বর ব্রিজ থেকে বাংলা স্কুল ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ ফুট প্রস্থ বিকল্প সড়কটির স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি গাইডওয়াল। এছাড়া ভোলা খালের ওপর নতুন করে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ করায় বর্তমানে খালের পানির গতিপথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। এতে করে আগামী বর্ষা মৌসুমে শহরে জলাবদ্ধতারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। অবিলম্বে ভোলা খালের দুই পাড় দখলমুক্ত করে খালটি পূনঃখননের জন্য সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।


মন্তব্য