kalerkantho


সাংবাদিক শিমুল হত্যায় আরও দুজন গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:৪৮



সাংবাদিক শিমুল হত্যায় আরও দুজন গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় গুলিতে সমকালের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল নিহতের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ওই দুজনকে শাহজাদপুর পৌরসভার বিসিক বাস টার্মিনাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন শাহজাদপুর পৌর এলাকার বারাবিল গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মতিন প্রামানিকের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৫) এবং জান্নাতপুর গ্রামের হাজি জিন্দার আলীর ছেলে হযরত আলী (৪৮)।

শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ভিডিও ফুটেজ ও তদন্তে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকার উদ্দেশে পালিয়ে যাবার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে শাহজাদপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের শাহজাদপুর আমলি আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মনিরুল ইসলাম জানান, শিমুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী নুরুন্নাহারের করা মামলায় পৌর মেয়র এবং তার সহোদ্বর মিন্টু ও পিন্টুসহ এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই হাফিজুল হক শহরের কালীবাড়ি মোড়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধর করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের সমর্থক কলেজছাত্র ও মহল্লার লোকজন একযোগে বেলা তিনটার দিকে মেয়রের বাসায় হামলা চালান। এ সময় মেয়র হালিমুল হক মিরু তার শটগান থেকে গুলি ছোড়েন।

এই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে ছিলেন সাংবাদিক শিমুল এবং তিনি তখন গুলিবিদ্ধ হন।

একাধিক গুলি তার মাথা ও মুখে লাগে। প্রথমে তাকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার দুপুরে বগুড়া থেকে ঢাকায় আনার পথে তিনি মারা যান। সংঘর্ষের সময় মেয়রের বাড়ির উল্টোদিক থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন তা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়; যাতে মেয়র মিরুকে শটগান হাতে দেখা যায়। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক মিরু, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

 


মন্তব্য