kalerkantho


পিস্তল গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার

জামালপুরে তিন অপহরণকারী গ্রেপ্তার

জামালপুর প্রতিনিধি    

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:১৭



জামালপুরে তিন অপহরণকারী গ্রেপ্তার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তিন অপহরণকারী ও প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের নগদ ১৬ হাজার ৪৫০ টাকা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি এবং পাঁচটি মুঠোফোন জব্দ এবং অপহৃত ফেনী জেলার দুই ব্যক্তিকে  উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অপহরণকারীরা হলেন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ভাটিপাড়া গ্রামের মো. সাজ্জাদ হোসেন, গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর উপজেলার সিধাই গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন এবং গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার দেলুয়াবাড়ী গ্রামের মো. বাদল শেখ। অভিযানের সময় অপহরণকারীদের কবল থেকে এসি মেকানিক ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার মো. রনি মিয়া (২৪) ও একই জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার আব্দুল আল ফরহাদকে (১৯) উদ্ধার করা হয়। ঢাকা গুলশানের সুইফ টেক্স সুলকান প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শরিফুল ইসলাম আজ শুক্রবার সকালে র‍্যাবের ক্রাইম প্রিভেনশন কম্পানি ১ এর জামালপুর ক্যাম্পে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান। এ সময় র‍্যাবের জামালপুর ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, র‍্যাবের জামালপুর কম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে র‍্যাবের একটি দল গত বুধবার থেকে আজ  শুক্রবার পর্যন্ত জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরে বিভিন্ন এসি মেকানিক ও ওয়েল্ডিং অপারেটরদের মালিকের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। তারা ওই মালিককে মুঠোফোনের মাধ্যমে তাদের এলাকায় কাজের কথা বলে মেকানিকদের আসতে বলে। মেকানিকরা জামালপুরে আসলে কৌশলে তাদেরকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর এলাকায় নিয়ে নৌকাযোগে দুর্গম এলাকায় জিম্মি করে মারধর করতো।

অপহরণকারীরা তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনের মাধ্যমে ভিকটিমদের মালিক ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ আদায় করে। তারা উদ্ধার হওয়া ভিকটিমের মালিক ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে বিকাশ এবং ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৪৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে।

র‍্যাব জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চক্রটির কবলে পড়েছিলেন ঢাকার বাড্ডা এলাকার লক্ষ্মীপুর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মো. মনির হোসেন। চক্রটি মুঠোফোনে ওয়েল্ডিংয়ের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরে নিয়ে জিম্মি করে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, গ্রেপ্তার তিন অপহরণকারীসহ ছয়জনের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মুঠোফোনে প্রতারণার ফাঁদ পেতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। ওই চক্রের বাকি তিনজন অপহরণকারী ইউনুছ ডাক্তার, সুজন এবং সুজা মাঝিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার মো. সাজ্জাদ হোসেন ও মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।


মন্তব্য