kalerkantho


ঘাতক ছেলে আটক

গোসাইরহাটে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি    

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:০৮



গোসাইরহাটে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবা ওয়ারেছ খাঁকে  (৭০)  কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে দবিরকে (২২) আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও স্বজনদের দাবি, ঘাতক ছেলেটি মানসিক প্রতিবন্ধী। তবে পুলিশ বলছে,  কোনও ডাক্তারি সনদপত্র ছাড়া তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী বলা যাচ্ছে না।

গোসাইরহাট থানা, নিহতের জামাতা আবুল কালাম মাঝি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছোট কালিনগর গ্রামের ওয়ারেছ খাঁ গত ছয় বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তার ছোট ছেলে দবিরকে নিয়ে একাই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। অপর বড় দুই ছেলে ঢাকায় বসবাস করেন এবং দুই মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। দবির গত দুই বছর আগে গোসাইহাট শামসুর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এরপর তিনি লেখাপড়া ছেড়ে দেন। দবির ও তার বাবা ওয়ারেছ খাঁর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বাবা ওয়ারেছ খাঁ নিজ বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন। এ সময় ছেলে দবিরের সঙ্গে ঝগড়া হয় তার।

একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দবির ঘর থেকে ধারালো দা নিয়ে বাবার গলায় কোপ দেন। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ সময় দবির 'বাবা বাবা' বলে চিৎকার করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। দবিরের চিৎকার শুনে চাচাতো ভাই রুবেল খান, সেলিম উদ্দিনসহ আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

গোসাইরহাট থানার ওসি এ বি এম মেহেদী মাসুদ বলেন, "পারিবারিক কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ঘাতক ছেলেটিকে আটক করা হয়েছে। " তিনি বলেন, "স্থানীয় ও স্বজনদের দাবি, ঘাতক ছেলেটি মানসিক প্রতিবন্ধী। এ বিষয়ে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ না করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। মামলার প্রস্তুতি চলছে, মামলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। "


মন্তব্য