kalerkantho


ফরিদপুরের সদরপুর

নিক্সন ও জাফরউল্যাহর সমর্থকদের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১০

এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:১৩



নিক্সন ও জাফরউল্যাহর সমর্থকদের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১০

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকদের সাথে আ.লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহর সমর্থকদের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সংঘর্ষে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছে।

আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উপজেলা সদর ইউনিয়নে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত  ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সংঘর্ষে কাজী জাফরউল্যাহর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সদরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী  শফিকুর রহমান।
পুলিশ ও এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সদরপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা সমন্বয় সভা চলছিল। সভা চলাকালে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমানের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সভাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ  খবর পেয়ে উভয় পক্ষের শতাধিক  সমর্থকরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপজেলার এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে মুখোমুখি  অবস্থান নেয়। পরে দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে  ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল বিনিময় চলে।
এই ঘটনায় সদরপুর চন্দ্রপাড়া সড়কে দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার সদরপুর প্রতিনিধি তোফাজ্জেল হোসেন টিটুসহ আহত হয় ১০ ব্যক্তি। তাকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।
আহত সাংবাদিক টিটু জানান, তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা, মুঠোফোন ও তার মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে কাজী শফিকুর রহমানের উত্তেজিত সমর্থকেরা।
সদরপুর থানার ওসি হারুন আর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষের উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সদরপুর থানা পুলিশের একাধিক দল শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক উপজেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সদরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নে ১৪৪ধারা জারি করেন। বিকেলে র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক দল এলাকায় টহল দিচ্ছিল।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) রোকসানা রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা সদর ইউনয়নে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্তু ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে জানান তিনি।

 


মন্তব্য