kalerkantho


অধ্যক্ষের ওপর হামলা-মামলার ঘটনায় পাল্টা মামলা

শেরপুর প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৮



অধ্যক্ষের ওপর হামলা-মামলার ঘটনায় পাল্টা মামলা

শেরপুরে কলেজ অধ্যক্ষ আ. লীগ নেতা গোলাম হাসান সুজনের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলায় দায়ের করা মামলার ঘটনায় এবার পাল্টা চুরির মামলা দায়ের হয়েছে। শহরের মীরগঞ্জ মহল্লার ছামিদুল হকের ছেলে খোকন মিয়া (২৮) বাদী হয়ে দায়ের করা ওই মামলার ঘটনাও দেখানো হয়েছে অধ্যক্ষ সুজনের ওপর হামলার ঘটনার একই রাতে। মামলায় জেলা খাদ্য বিভাগে কর্মরত হুইপ আতিউর রহমান আতিকের ভাগিনা রুকনুজ্জামান রোকন, আহত অধ্যক্ষ সুজনের ছোটভাই রোমান (৪১), আ. লীগ নেতা নবীনগরের হাজী দুলাল মিয়ার ছেলে সোহেল রানা, চরমুচারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদুজ্জামানের ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাতে সদর থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পার্শ্ববর্তী কসবা মোল্লাপাড়া মহল্লার রোমান মিয়া মিয়া বাস টার্মিনালের পশ্চিম পার্শ্বে বটতলা মোড়ে খোকন মিয়ার মুদি দোকান। ওই মুদি দোকানে বাকীতে মালামাল নেয়াকে কেন্দ্র করে মনোমালিন্যের জের ধরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র সহকারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। ওই সময় দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে অনুমান ৩০/৩৫ হাজার টাকা চুরি করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, অধ্যক্ষ সুজনের উপর হামলার মামলায় ১৭ আসামির মধ্যে ৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ৮ জন আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছে। সুজনের মামলায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর রুমানের চাচাতো ভাই যুবলীগ কর্মী হাসান মিয়াকে আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে শহরের কসবা এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন অধ্যক্ষ সুজন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

আ. লীগ নেতাদের একাংশের দাবি জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার জের ধরে কলেজ অধ্যক্ষ সুজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সুজন জেলা আ. লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা আ. লীগ সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজের অধ্যক্ষ। জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র জেলা আ. লীগে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। আ. লীগ প্রার্থী চন্দন কুমার পালকে পরাজিত করে বিদ্রোহী হুমায়ুন কবীর রুমান বিজয় লাভ করেন।

এদিকে, গত শনিবার অধ্যক্ষ সুজনের ওপর হামলার প্রতিবাদ সভায় আ. লীগ নেতারা তাদের বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিমের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের মদদদাতাদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলেন। এর প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ৫ জেলার জেলা প্রশাসক রদবদলের আদেশ জারী করে তার মাঝে শেরপুরের জেলা প্রশাসকের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। শেরপুরে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনকে পদায়ন করা হয় এবং শেরপুরের জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিমকে প্রতিবন্ধি উন্নয়ন ফাউন্ডশনের পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

তাছাড়া বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দানকালে জেলা আ. লীগ সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি শান্ত শেরপুরকে অস্থিতিশলীল করে তোলার জন্য দলের একটি অংশ অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এতে সন্ত্রাসীরা প্রশ্রয় পাচ্ছে এবং বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কলেজ শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতৃবৃন্দকে অস্ত্রধারীরা হুমকি-ধামকি দিয়ে এক অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। হুমকির শিকার লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়ে তিনি এ অবস্থার পরিত্রাণ দাবি করেন।


মন্তব্য