kalerkantho


নীলফামারীতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:৫৭



নীলফামারীতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

নীলফামারীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ২৭টি পদে লোক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বঞ্চিতরা অভিযোগ করে বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারী ওই ২৭টিসহ সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাতটি পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এক ঘন্টা ২০ মিনিট সময়ে ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৪ হাজার ৯৩০ প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। ওই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র তিন থেকে চার ঘন্টার মধ্যে নিরীক্ষা করে উত্তীর্ণের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এরপর গত ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারী ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারী পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদান করে ওই দিনই কাজে যোগদান করানো হয়েছে। তরিঘড়ি করে জেলা প্রশাসনের ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের কাজে যোগদান করানোর বিষয়টি হতবাক করেছে আমাদেরকে।

তারা আরও বলেন, পরীক্ষাটি ছিল একটি প্রহসন। অর্থবানিজ্যের মাধ্যমে প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে। এ কারণে উত্তরপত্রে ডি কোড ব্যবহার করা হয়নি। সকল উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করেই ওই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে প্রকৃত মেধাবীরা চাকরি প্রাপ্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বঞ্চিতদের পক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের প্রার্থী কাজী জাহাঙ্গীর ওয়ার্সী  (রোল নম্বর ৩৫৭২)। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এই পদের প্রার্থী জোনায়েদ বিন হোসেন  (রোলনম্বর ৩৭১১), রফিকুল ইসলাম (৩৪০৭), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান ও নীলফামারী সরকারী কলেজে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায় কাজী আলমগীর হোসেন রাজা।

রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, লিখিত, ব্যবহারিক এবং মৌখিক পরীক্ষা আমি ভালো দিয়েছি। আমার চেয়েও খারাপ পরীক্ষা দিয়ে অনেকের চাকরি হয়েছে। যথাযথ মূল্যায়ন হলে আমার মতো মেধাবীরা চাকরির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন না।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী জাহাঙ্গীর ওয়ার্সী বলেন, পক্ষপাতিত্ব এবং প্রহসনের ওই পরীক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে গতকাল সোমবার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আমি একটি মামলা দায়ের করি। এর প্রেক্ষিতে মামলা চলাকলীন সময়ে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকার জন্য কেন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না তা নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘন্টার মধ্যে জানতে চেয়েছেন আদালত।

ওই মামলার আইনজীবী শাহ মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, পরীক্ষা প্রক্রিয়াটি বেআইনি, তঞ্চকতামূলক মর্মে ঘোষণার ডিগ্রির দাবিতে দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের আদেশ ৩৯ রুল ১ তদসহ ১৫১ ধারার বিধান মোতাবেক প্রতিকার চেয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক, রংপুর বিভাগীয় কমশিনার, জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মাহমুদ হাসান মামলাটি গ্রহণ করেন এবং কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে না তার কারণ নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিবাদীকে নির্দেশ প্রদান করেন। মামলার বিবাদী আজ মঙ্গলবার সকালে নোটিশ গ্রহণ করে আদালতে এক মাসের সময় প্রার্থনা করেন। আদালত সেটি গ্রহণ করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন বলেন, তাদের অভিযোগ সত্য না। বিভাগীয় কমিমনারকে প্রধান করে পাঁচ সদসস্যের নিয়োগ কমিটি যথাযথভাবে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিয়োগ প্রদান করেছেন। মামলার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় মোকাবেলা করা হবে।

এর আগে গত সোমবার রাত ১১টার দিকে একই অভিযোগে স্থানীয় চৌরঙ্গী মোড় থেকে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বঞ্চিতরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বাজার ট্রাফিক মোড়ে একটি পথসভায় বক্তৃতা দেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ, জেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান।


মন্তব্য