kalerkantho


সেই ফিস হ্যাচারির অনিয়ম নিয়ে তদন্ত, বিভাগীয় মামলার প্রস্ততি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৩৪



সেই ফিস হ্যাচারির অনিয়ম নিয়ে তদন্ত, বিভাগীয় মামলার প্রস্ততি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (ফিশ হ্যাচারি) বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সরেজমিনে তদন্ত ও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (রিজার্ভ) এ কে এম লুৎফুর রহমান সিদ্দিক এ তদন্ত করেন। আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ওই ফিশ হ্যাচারিতে এই কার্যক্রম চলে। এ সময় অভিযোগকারী, এলাকাবাসী ও সংবাদকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগেও ২২ জানুয়ারি একই কর্মকর্তা এ বিষয়ে তদন্ত করেছেন।

এদিকে হ্যাচারির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘দুর্নীতি হাবুডুবু’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ নিয়ে প্রশাসনে ব্যাপক হই-চই পড়ে। এরপরে ২১ ডিসেম্বর মৎস্য বিভাগের কুমিল্লাস্থ চট্রগ্রাম বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী তদন্তে এসে রেণু বিক্রির টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। এতে হ্যাচারির সম্প্রাসরণ সুপার ভাইজার মোঃ কামাল উদ্দিনকে বদলি করা হয়। চৌমুহনী মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে তাকে বদলি করে কর্তৃপক্ষ। কামালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্ততি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিকালে মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রশিদ ছাড়া রেণু বিক্রি, বেশি রেণু বিক্রি করে সরকারি হিসাবে কম দেখানো, দরপত্র ছাড়া নির্মাণ-সংস্কার কাজ করানো ও পুকুরে অতিরিক্ত চুন দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মা মাছ হত্যার ঘটনাও রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলার দক্ষিণ কাঞ্চনপুর এলাকার খলিলুর রহমান সম্প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট একাধিক তথ্য-প্রমাণসহ মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী এবং ওই মন্ত্রনালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসব অনিয়মের বিষয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।  

কমিটি গঠনের পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে রায়পুর ফিশ হ্যাচারিতে তদন্ত চলাকালে মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (রিজার্ভ) এ কে এম লুৎফুর রহমান সিদ্দীক বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। রেনু বিক্রির রশিদে টাকার অংকের স্থানে গড়মিল কামাল উদ্দিনকে বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্ততি চলছে।


মন্তব্য