kalerkantho


ইউএনও'র উদ্যোগে চাকরি পেল প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা)   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:১৭



ইউএনও'র উদ্যোগে চাকরি পেল প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে

স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কোনো মতে সংসার চালাতেন দোহার উপজেলার চরকুশাই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদ আলী। চাকরি করতেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস পিয়ন হিসেবে।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি ভাতা ও চাকিরর বেতন তা দিয়ে কোনো মতে চলে যেত ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসারের দৈনন্দিন খরচ। তবে মাস শেষে অবশিষ্ট থাকত না কিছুই। এরই মধ্যে গত তিন বছর আগে বড় মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে জমানো সরকারি তহবিল থেকে টাকাও উঠিয়ে ফেলেন। চাকরি জীবনে সৎ ও নিষ্ঠাবান থাকায় বাড়িতে ভাঙাচোরা একটি টিনের ঘর ছাড়া কিছুই নেই মোকছেদের। কিন্তু চালিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ছেলে ও মেয়ের পড়ালেখা। মেয়ে শিল্পী আক্তার পড়ছেন জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিএসএস পাস কোর্সে। আর ছেলে পড়ছেন দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে। ইচ্ছা ছিল কষ্ট করে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া শেষ করতে পারলে তারা একটা চাকরিতে যোগদান করলে সব অভাব দূর হয়ে যাবে। কিন্তু এরই মধ্যে গত ২ ফ্রেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে মৃত্যু হয় মোকছেদ আলীর। স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যায় পুরো পরিবারের। সংসারে আয়ের একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে হতাশায় ডুবে যায় পুরো পরিবার। মৃত্যুর কারণে সরকারি চাকরির বেতন ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কাগজপত্র জটিলতায় পুনরায় চালু হতে সময় লাগবে। ততদিন কিভাবে চলবে পরিবারটি।

এমন দুশ্চিন্তায় মোকছেদের স্ত্রী রাহিমা বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে যখন হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন ঠিক তখনই বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম, আল-আমীন। গত শনিবার প্রয়াত মোকছেদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারটিকে আশ্বস্ত করেন তাদের পাশে তিনি থাকবেন। বেতন ও ভাতা চালু না হওয়া পর্যন্ত মোকছেদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে খেয়ে-পড়ে চলতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিবেন তিনি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার সকালে মোকছেদের মেয়ে শিল্পী আক্তারকে নিজের অফিসে ডেকে এলাকারই একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ৭ হাজার টাকা বেতনে সম্মানজনক একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন। চাকরির পাশাপাশি দুই ভাই-বোন যাতে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে সে ব্যবস্থাও করেন তিনি।

এমন দুঃসময়ে একটি চাকরি পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন শিল্পী। তার ভাই গোলাম কিবরিয়া তাকে জড়িয়ে কান্না করেন। কান্নাজড়িত কন্ঠে তারা বলেন, “২/৪ দিন চলব সে রকম কিছুও আব্বা ঘরে রেখে যেতে পারেনি। আব্বার বেতন-ভাতা চালু হলে হয়তো সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এমন দুঃসময়ে ইউএনও স্যার আমাদের পাশে না দাড়ালে আমাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেত। সংসারও চালাতে পারতাম না। ওনি আমাদের জন্য যা করলেন এটা কোনো দিনও ভুলব না। আব্বার কাছে শুনেছিলাম স্যারের কথা, সত্যি সত্যি স্যার একজন ভাল মানুষ। ”

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন বলেন, মোকছেদ আলী একজন ভাল ও সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি ঢাকাও ছুটে গিয়েছিলাম। পরে বাড়িতে গিয়ে পরিবারটির দুরবস্থা  দেখে তাদের পাশে দাড়িয়েছি। যাতে মোকছেদের ছেলে-মেয়ে পড়ালেখাটা চালিয়ে যেতে পারে। ওদের বাবার স্বপ্ন যেন পূরণ হয়।


মন্তব্য