kalerkantho


মানবসেতুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:১২



মানবসেতুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

চাঁদপুরের হাইমচরের নীলকলম ওসমানিয়া হাইস্কুলের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের গড়া মানবসেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীনের কাছে এ রিপোর্ট জমা দেন কমিটি প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দা সারোয়ার জাহান।

তিনি জানান, ঘটনা যেভাবে পত্রপত্রিকায় এসেছে সেভাবেই ঘটেছে। ঘটনা সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ আমরা তদন্তে পেয়েছি। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে সেটাই আমরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রতিবেদনটি পাঠাবেন।

তদন্ত রিপোর্টে দায়ী তিনজন হলেন হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন, নীলকমল স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুমায়ন কবির পাটোয়ারী, প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন। তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমাদের কাছে ভুল স্বীকার করেছেন। বলেছেন- এটা তার ভুল হয়ে গেছে। আর স্কুল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে ও তাদের আয়োজনেই ওই ঘটনা ঘটেছিল।

তাই হাইমচর নীলকমল স্কুলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি হুমায়ন কবির পাটোয়ারী এবং প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনকেও ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর আগে স্কুলের আয়োজনে পদ্মা সেতুর প্রতীকী উপস্থাপনায় ইচ্ছে না থাকলেও ছাত্রদের জোরালো অনুরোধ ফেলতে পারেননি বলে উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেনের দাবির পর প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনও শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপাতে চেয়েছেন। ওই সময় প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেছিলেন, প্রতিবছরই আমরা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ডিসপ্লে করি। এবারের ডিসপ্লেতে মানবসৃষ্ট পদ্মা সেতু তৈরি করে তাকে (নূর হোসেন পাটোয়ারী) শিক্ষার্থীরা হাঁটার অনুরোধ জানায়। তাতে তিনি সাড়া দেন।

উল্লেখ্য, হাইমচরের নীলকমল স্কুলে গত ৩০ জানুয়ারিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ছাত্রের পিঠের ওপর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারীর হাঁটার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বির্তকের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর হাইমচর উপজেলা পরিষদের এই চেয়ারম্যানসহ স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেন এক ছাত্রের অভিভাবক। আর ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এক সদস্যবিশিষ্ট ওই তদন্ত কমিটির প্রধান সৈয়দা সারোয়ার জাহান চাঁদপুরে এসে ২ দিন ধরে তদন্ত শুরু করাকালীন অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন তার কাছে না এসে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠান, যাতে ছাত্রের পিঠে চড়ায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া হয়।

 


মন্তব্য