kalerkantho


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অতিথিশালা নিয়ে জটিলতার ব্যাখ্যা দিল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, রাজশাহী   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:২৯



অতিথিশালা নিয়ে জটিলতার ব্যাখ্যা দিল প্রশাসন

রাজধানীর হাতিরপুল এলাকায় নির্মাণাধীন অতিথিশালা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার ব্যাখ্যা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই নিবাসের জমির মূল্য এবং এ সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতা বিষয়ক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরে।

ঢাকায় জমিসহ ফ্ল্যাট ক্রয় কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান জানান, ১৯৯০ সালে ঢাকায় ভাড়া বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিশালা চালু করা হয়। বর্তমান অতিথিশালায় জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় নিজস্ব অতিথিশালা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। অধিকতর সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এ অতিথিশালা কেনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন নেওয়া হয়। পরে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন হোল্ডিংস প্রতি বর্গফুট ছয় হাজার ৭৫০ টাকা দরে প্রয়োজনীয় ফ্লোর দিতে ব্যর্থ হলে দরপত্রটি বাতিল হয়। দ্বিতীয় দফা দরপত্রে এলডোরাডো ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড প্রতি বর্গফুট দরে সাত হাজার ৯০০ টাকা দরে কাজ পায়। তবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি মালিকানার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত নেন। এলডোরাডোর সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিক খালিদ মাহমুদের কোনো চুক্তি না থাকায় জমিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা বর্তায় না বলে আইন উপদেষ্টা মতামত দেন। এরই মধ্যে জমির মালিক খালিদ মাহমুদ এলডোরাডোর দরে জমিসহ নির্মাণাধীন ভবন বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে ফ্ল্যাট ক্রয় কমিটি জমিসহ ফ্ল্যাট সরাসরি ক্রয়ের সুপারিশ করে।

সেটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি, ফাইন্যান্স কমিটি এবং পরে সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়।  

তিনি দাবি করেন, গত ৩১ আগস্ট এলডোরাডোর দরপত্র বাতিল করে খালিদ মাহমুদের কাছ থেকে ভবনসহ জমি সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় জমিসহ ফ্ল্যাট ক্রয় কমিটি। খালিদের সঙ্গে দর কষাকষির মাধ্যমে ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ হয়। এর মধ্যে ১২ হাজার আটশ ৯৬ বর্গফুট স্পেসের দাম এবং নয়টি পার্কিং স্পেস ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, লিফটসহ ১৩টি ইউটিলিটি বিল বাবদ মোট ১০ কোটি ৮৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা আছে। এছাড়া ভবনের নিবন্ধন, বিভিন্ন ট্রান্সফার ফি, সীমানা প্রাচীরসহ যাবতীয় খরচ হিসেবে দুই কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা আছে। এসব বিষয় ফাইন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যে তিন ধাপে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণ শেষ হলে সর্বশেষ ধাপে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে জানান তিনি।

আজ সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অতিথিশালা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় উপ-উপাচার্য তাঁর লিখিত বক্তব্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে আংশিক তথ্য নির্ভর ও সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি বলে দাবি করেন।  

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু এন্তাজুল হক, প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর ও হিসাব পরিচালক আশরাফ-উল-হুদা। তাঁরা দাবি করেন, অতিথিশালা ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় নীতিমালা ২০০৮ এর কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি। পিপিআর ২০০৮-এ জমি/ফ্ল্যাট ক্রয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকলেও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায়ের লক্ষ্যে পণ্যের আওতায় ফেলে দুইবার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতেও ব্যর্থ হয়ে সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যাতে সরকারি ক্রয়নীতির সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসৃত হয়েছে।  

এদিকে অতিথিশালা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানি হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেছে শিক্ষক সমিতি। বেলা ১১টায় সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি জানান।  

পরে এ বিষয়ে অধ্যাপক শাহ আজম বলেন, ‘প্রশাসন যদি এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।


মন্তব্য