kalerkantho


মেহেরপুরে ভেঙে ফেলা হচ্ছে সেই স্কুল ভবন

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৩১



মেহেরপুরে ভেঙে ফেলা হচ্ছে সেই স্কুল ভবন

মেহেরপুরের গাংনীতে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়া সিঁড়ির সেই স্কুল ভবন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। উপজেলার নবীনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণকাজে ত্রুটি প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকারের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশে ওই ভবন ভাঙা শুরু হয়।

আজ সোমবার সকালে মেহেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন সরদার, গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হকের উপস্থিতিতে ঠিকাদারের শ্রমিকরা ভবন ভাঙা শুরু করেন। একই সঙ্গে অনিয়ম করে ভবন নির্মাণ করার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্তরা করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী।
 
এদিকে ভবন ভাঙার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবক, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা স্কুল চত্বরে জড়ো হন এবং পুরো ভবন ভেঙে ফেলার দাবি করেন। না হলে ওই স্কুলে তাদের সন্তানদের পাঠাবেন না বলে জানান অভিভাবকরা।  

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, এই বিল্ডিং এর একটা অংশ থাকলেও আমরা নেব না। প্রয়োজনে আমাদের স্কুলের জমি ফাঁকা করে দেওয়া হক। আমরা দরকার হয় ওখানে চাষাবাদ করব।  

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নুরুন নাহার শেলী বলেন, অনিয়ম করে বিল্ডিং বানানো হয়েছে। বিল্ডিং পুরাপুরি ভেঙে দিয়ে নতুন ভাবে করে দেওয়ার দাবি করেন তিনি।

নতুন করে না দিলে অভিভাবকরা তাদের বাচ্চা দিবেন না বলে তিনি জানান।  

তিনি আরো জানান, গত বছর এখানে ১২০ জন শিক্ষার্থী ছিল। নতুন ভনের সিড়ি ভেঙে যাওয়ার কারণে এ বছর মাত্র ৭০ জন ভর্তি হয়েছে। দূর্বল এই ভবন পুরো ভেঙ্গে নতুন না করা হলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবে না বলে জানিয়েছেন তাকে।  

এদিকে এ বিষয়ে এলজিইডির গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক বলেন, নির্মাণ কাজে ত্রুটি প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ গত বৃহস্পতিবার এক আদেশে এই ভবনের যতটুকু ক্রুটি আছে সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।  

এ ব্যাপারে মেহেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন সরদার বলেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশে ওই ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উপর থেকে ভাঙা হবে। যতটুকু ত্রুটি পাওয়া যাবে ততটুকু ভেঙ্গে ফেলা হবে। এমনকি যদি ভবনের নিচ পর্যন্ত ত্রুটি পাওয়া যায় সেটিও ভাঙা হবে।  

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের অনিয়মের কারণে আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তামান্না ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে কালো তালিকাভুক্ত করেছি। এর ফলে ওই প্রতিষ্ঠানটি এলজিইডিসহ যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করার এখতিয়ার হারাবেন।  

জানা গেছে, পিইডিপি-৩ প্রকপ্লের আওতায় ৬৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দে গত বছরের মে মাসে কাজ শুরু করে তামান্না ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের কুষ্টিয়ার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ওই বিদ্যালয় ভবনের কাজ ভাগ করে নেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার মোনায়ামে হোসেন মুলাক। কাজের শুরু থেকে সিমেন্ট কম দেওয়া, দুর্বল ইট ব্যবহার করাসহ নানা অনিয়ম করলেও ঠিকাদার ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাননি। নির্মাণের সময় স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক ও শিক্ষকরা এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি তাদের কয়েক দিনের পারিশ্রমিকও পরিশোধ করা হয়নি। শিক্ষকরাও প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের সাথে ঠিকাদার পক্ষের লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।  

প্রসঙ্গত, গত ২২ ডিসেম্বর ওই ভবনের ১ম তলার সিঁড়ি তড়িঘড়ি করে প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতে ঢালাই করা হয়। এর ১৫ দিন পর গত ৭ জানুয়ারি দুপুরে নির্মানাধীন ২য় তলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের জন্য সাটারিংয়ের কাজ শেষে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে সিঁড়ি ধসে নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এক নির্মাণ শ্রমিক আহত হন। সেই সময় বিদ্যালয়ের পুরাতন টিন শেডের ভবনে ক্লাস চলছিল। এ নিয়ে গত ৮ জানুয়ারি কালের কণ্ঠের ২য় পাতায় ‘স্কুল ভবন নির্মাণ শেষের আগেই ধসে পড়ল সিঁড়ি’ এবং ৯ জানুয়ারি একই পাতায় ‘ঠিকাদারের বদলে শ্রমিকের নামে জিডি’ শিরোনামে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।


মন্তব্য