kalerkantho


সৈয়দপুরে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ১১৩ জনকে কারাগারে প্রেরণ

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:২২



সৈয়দপুরে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ১১৩ জনকে কারাগারে প্রেরণ

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার একটি মামলায় ১১৩ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার নীলফামারীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জেষ্ঠ্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম হোসেন তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

মামলার সূত্র মতে, ২০১৬ সালের ৪ জুন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ইউনিয়নের চওড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এরপর ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে আসার পথে এক নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী ফজলুল হক লোকজন নিয়ে ভোটের কাজে দায়িত্বরতদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ব্যালটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। তাদের হামলায় ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খলিলুর রহমান ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান আহত হন। পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর সেখান থেকে ব্যালটসহ ও নির্বাচনী অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে চলে আসতে সক্ষম হয় নির্বাচনী কাজের দায়িত্বরতরা। এ ঘটনায় ওই রাতে ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় আটজন নামীয়সহ এক থেকে দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক কার্তিক চন্দ্র মোহন্ত তদন্ত শেষে একই বছরের (২০১৬) ১৫ ডিসেম্বর ১১৩ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আদালতে।

আজ রবিবার ওই মামলার ধার্য দিনে আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

এ ব্যাপারে মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুল ওহাব চৌধুরী বলেন, ওই মামলায় নামীয় আটজন আসামিকে গত বছরের ১২ জুন উচ্চ আদালত আট সপ্তাহের জামিন দেন। ওই আট সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হননি। এর মধ্যে নামীয় ওই আটজনের মধ্যে একজনকে বাদ দিয়ে ১১৩ জনের নামে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। রবিবার মামলার নির্ধারিত তারিখে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে সকলকে কারাগারে পাঠান।


মন্তব্য