kalerkantho


মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি

১৬ মাস বন্ধ থাকার পর শুরু হলো খনির উন্নয়নমূলক কাজ

পার্বতীপুর(দিনাজপুর)   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:১৩



১৬ মাস বন্ধ থাকার পর শুরু হলো খনির উন্নয়নমূলক কাজ

দীর্ঘ ১৬ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার পরে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দেশের একমাত্র মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পুনরায় পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় শিফ্টের উন্নয়নমূলক কাজ গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে।

খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) সূত্র বলেছে, সাময়িক কর্মবিরতিতে থাকা খনির শ্রমিক ও কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই পুনরায় চাকরিতে যোগদান শুরু করেছেন।

সূত্র জানায়, পাথর খনির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খনির ভূ-গর্ভে নতুন স্টোপ (শিলা উৎপাদন ইউনিট) নির্মাণসহ খনির উন্নয়নে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় খনির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে ১৬ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকে। বেকার হয়ে পড়ে ৪৬০ জন শ্রমিক ও কর্মচারী।

জিটিসি জানায়, ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর খনিতে উৎপাদন বন্ধ হয়। তার আগে খনিতে ৩ শিফ্টে পাথর উত্তোলন করছিল জিটিসি। খনির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জিটিসি ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর চুক্তিমূলে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাথর উত্তোলন শুরু করে। জিটিসি দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত এক শিফ্টের জায়গায় দুই শিফ্ট ও পরে তিন শিফট পাথর উত্তোলন করে। এ সময় ৪৬০ জন শ্রমিক ৩ শিফটে কাজ করে।

 

সূত্রটি আরও জানায়, জিটিসি দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়। এর আগে এমজিএমসিএল কর্তৃপক্ষ তাদের সময়ে কোরিয়ান বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করছিল।  

এদিকে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদ খান বলেন, খনির উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সময় খনি ইয়ার্ডে ৬ লাখ মেট্রিক টন পাথর মজুদ ছিল। এর পুরোটাই ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।  

তিনি আরও জানান, গত শনিবার দ্বিতীয় শিফ্টের  উন্নয়নমূলক কাজের সময় ২৩৮ মেট্রিক টন পাথর উঠে এসেছে। আগামী ২০ মার্চের মধ্যে খনিতে তিন শিফ্টে উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্ত হবে। আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে মধ্যপাড়া খনিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে এখানে ৪ শিফ্টেও পাথর উত্তোলন করা হবে বলে জানান তিনি।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, এর আগে প্রতি শিফ্টে শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা করে কাজ করত। ৪ শিফটের কাজ শুরু হলে ওই শ্রমিকরা প্রতি শিফ্টে ৬ ঘন্টা করে কাজ করবে। এতে শ্রমিকের কাজের মান এবং পাথর উত্তোলন বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 


মন্তব্য