kalerkantho


ফেনীতে ছাত্রদলের হ-য-ব-র-ল অবস্থা

ফেনী প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:২১



ফেনীতে ছাত্রদলের হ-য-ব-র-ল অবস্থা

ফেনীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হ-য-ব-র-ল অবস্থা কাটছে না। দির্ঘদিন এমন অবস্থা বিরাজ করায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জেলা কমিটি ঘোষণার আড়াই বছর পার হলেও বিরোধ থাকায় জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। দীর্ঘদিন পর্যন্ত জড়িয়ে পড়া বিরোধ মিমাংসা করতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটি ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে। কমিটিতে সভাপতি পদে নইম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, সিনিয়র সহ সভাপতি এসএম কায়সার এলিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে সালাহউদ্দিন মামুনের নাম ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এক পর্যায়ে সিনিয়র সহ সভাপতির পদ থেকে এসএম কায়সার এলিন পদত্যাগ করলে ছাত্রদলে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। কয়েকদিনের মাথায় তৃণমূল ছাত্রদলের ব্যানারে সম্মেলন করে জেলা ছাত্রদলের আরেকটি পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেয় তারা। ওই কমিটিতে মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা সভাপতি ও এসএম কায়সার এলিন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। জেলা বিএনপির একাংশের নেতাদের ‘আশীর্বাদ’ নিয়ে মেজবাহ-এলিন কমিটি পৃথকভাবে ফেনীর রাজপথে সক্রিয় থাকে।

এ ছাড়াও তারা সদর  উপজেলা কমিটি ঘোষণা করে।

এদিকে বরাত-মামুন নেতৃত্বাধীন কমিটি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও দু’পক্ষের টানাটানিতে তৃণমূলের কর্মীদের কাছে পায়নি নেতারা। এতে করে দিন দিন সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হতে থাকে বরাত-মামুন কমিটি। আড়াই বছর নেতৃত্বে থেকে এ কমিটি শুধুমাত্র ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। বাকী জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি, ফেনী পৌরসভা, ফেনী সরকারি কলেজ, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী উপজেলা, সোনাগাজী পৌর ও কলেজ শাখার কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বরাত-মামুন কমিটি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পরও পদ-পদবি না পাওয়ায় কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজন নেতা বিদেশে পাড়ি জমায়। এ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা-কর্মী বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। কেউ কেউ জেলও খাটছেন।

এ ছাড়াও বরাত-মামুন কর্তৃক ঘোষিত সদর উপজেলা কমিটিকে ৩ মাসের মধ্যে সকল ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হলেও এরা বালিগাঁও, ছনুয়া ও মোটবী ইউনিয়ন কমিটি গঠনে সক্ষম হয়েছে। সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সজিবুল ইসলাম দলীয় কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয় ও ঢাকায় অবস্থান করায় ফেনী সদরের বাকি ৯ ইউনিয়নে কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু।

দলীয় অপর একটি সূত্র জানায়, বৈধতার দিক দিয়ে ছাত্রদলের মূল নেতৃত্বে বরাত-মামুন থাকলেও তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।  সম্প্রতি জেলা যুবদলের সভাপতি গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকের মুক্তির দাবিতে জেলা ছাত্রদলের ব্যানারে ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলের অগ্রভাগে জেলা সভাপতি বরাত থাকলেও তাতে দেখা মেলেনি সাধারণ সম্পাদক মামুনের। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। অনেকেই বিষয়টিকে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফল বলে মনে করছেন। এর আগে জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও বিভিন্ন ইউনিট কমিটিতে নিজেদের পছন্দের লোককে পদে স্থান দেওয়া নিয়ে বরাত-মামুনের মাঝে কোন্দল শুরু হয় বলে জানায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। এ ছাড়াও দুই নেতার মধ্যে বিরোধ থাকায় কর্মীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছে।  

এ বিষয়টি নিয়ে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন মামুন জানান, কমিটি গঠনে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলন-সংগ্রামসহ বিভিন্ন কারণে থমকে যায়। শীঘ্রই কমিটি গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। সভাপতি বরাত মামলার কারণে পলাতক থাকায় তার সাথে কথা বলা যায়নি।

 


মন্তব্য