kalerkantho


চকরিয়ায় সরকারি নিয়ম ভঙ্গকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:০২



চকরিয়ায় সরকারি নিয়ম ভঙ্গকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি

সরকারি নিয়ম-কানুন ও চাকরি বিধিমালা ভঙ্গ করে সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং দক্ষিণ পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগমকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা আযাদির বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে ওই প্রধান শিক্ষিকার কয়েকদিনের কর্মকাচারীর বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন উপজেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত কয়েক শ প্রধান শিক্ষিক ও সহকারী শিক্ষিকাবৃন্দ। গত শুক্রবার দুপুরে এসব শিক্ষিকরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলামের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দেন।  

স্মারকলিপিতে বলা হয়, কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং সরকারী বিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগম। কিন্তু ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়রা আযাদি সহকারী শিক্ষিকা মালেকাকে বিদ্যালয়ে যোগদানে বার বার বাধা প্রদান, এ নিয়ে কয়েকবছর ধরে দুই শিক্ষিকার মধ্যে মারামারি, মামলাসহ নানা ধরণের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও ২০১৩ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তার রোষানলের শিকার হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওযামী লীগের সভাপতি জাফর আলম। শুধু তাই নয়, চেয়ারম্যান জাফর আলমের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোসহ অতি সম্প্রতি আদালতে একটি নালিশি অভিযোগও রুজু করে প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা আযাদি। হুমায়রার অভিযোগ, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম প্রভাব খাটিয়ে কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে মারধর করেন। এমনকি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করেন। এ নিয়ে মামলা করায় তা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকিও দিচ্ছেন চেয়ারম্যান ও তার লোকজন।  

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে উপজেলায় কর্মরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকেরা ৬টি দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী হুমাইরা আযাদি কর্তৃক উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম ও তার সহধর্মিণী শাহেদা জাফর এবং সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগমের বিরুদ্ধে দায়ের করা নালিশি মামলা প্রত্যাহার করা, সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত মালেকা বেগমকে রিংভং দক্ষিণ পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা, শিগগিরই বিদ্যালয়ে একজন পরিপূর্ণ প্রধান শিক্ষিক পদায়ন করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ হতে তার স্বামীকে পদচ্যুত করা, সরকারি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী, ঊর্ধতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণকারী শিক্ষিকা হুমাইরাকে চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা।  

এর আগে শিক্ষিকদের এই প্রতিবাদ সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু তৈয়ব, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি জসীম উদ্দিন, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান, কাকারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ওসমান, কোনাখালীর চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার, চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, কাইছার, বিএমচরের চেয়ারম্যান এস এম জাহাঙ্গীর আলম, কৈয়ারবিলের মক্কী ইকবাল হোসেন, ডুলাহাজারার চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। এছাড়াও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরাও বক্তব্য রাখেন। শিক্ষিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষিক যথাক্রমে মকছুদুর রহমান, সাহাবউদ্দিন, নাছিমা আক্তার, সেলিনা আক্তার, সিরাজুল করিম, সহকারী শিক্ষিক যথাক্রমে হারুণুর রশিদ চৌধুরী, শাহেদা জাফর, মালেকা বেগম, আবুল কালাম। প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুতুবদিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক নুর আহমদ আনছারী ও পরিচালনা করেন চিরিঙ্গা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক তসলিম উদ্দিন।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি। এ কারণে দুই শিক্ষিকার মধ্যে চলমান সমস্যা নিরসন করা আমার দায়িত্ব। কিন্তু আমার দলের কিছু মৌসুমী ও সুবিধাভোগী নেতারা এ ঘটনায় রাজনীতি নিয়ে এসেছেন। রিংভং দক্ষিণ পাহাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা আযাদিকে দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলাও করিয়েছেন আদালতে।  

চেয়ারম্যান আরো বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৫ সালে। বনবিভাগের জায়গায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলেও সেই সময় আমি বনবিভাগের উধর্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টির অবস্থান নিশ্চিত করি। উপজেলা পরিষদের সার্বিক প্রচেষ্ঠায় প্রায় ৬ লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যবস্থা করি। বিদ্যালয়ের শুরুতে এখানে কর্মরত ছিলেন চারজন শিক্ষিক। তাঁরা হলেন প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়রা আযাদি, সহকারী শিক্ষিক বেলাল হোছাইন, ইয়াছমিন জন্নাত ও মালেকা বেগম। ২০১৩ সালে বর্তমান সরকারের আমলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের অপরাপর রেজিষ্টার্ড সকল বিদ্যালয়ের সাথে রিংভং দক্ষিণ পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে মালেকা বেগম বিদ্যালয়টিতে চাকরীতে বহাল আছেন। কিন্তু বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে গেজেটভূক্ত হওয়ার পর হঠাৎ করে প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মোটা অংকের টাকার লেনদেনের বিনিময়ে নতুন একজন শিক্ষিক নিয়োগের জন্য তোড়জোড় করেন। এরপর থেকে সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগমকে তিনি বিদ্যালয়ে যেতে নানাভাবে বারণ করেন এবং বাধা দেন। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুই শিক্ষিকার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই মধ্যে দুজনের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খাটতে হয় সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগমকে।


মন্তব্য